অস্তিত্ব সংকটে দেশী মাছের ভান্ডার

এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া :: দেশী মাছের ভান্ডার বলে খ্যাত উপকূলীয় মঠবাড়িয়া উপজেলায় চলছে মাছ নিধনের উৎসব। প্রতি বছর মৎস্য সপ্তাহ পালনের নামে হাজার হাজার টাকা ব্যায় করে কিছু কর্মসূচী পালন করা হয় যা দেশী মাছ রক্ষায় কোনই কাজে আসে না। প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকায় অসাধু জেলেরা অবৈধ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে বেপরোয়াভাবে মাছ নিধন করায় উপজেলার জলাশয় গুলো এখন দেশী মাছ অস্তিত্ব সংকটের পথে। দেশী মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবী জানিয়েছেন ভোক্তা সাধারণ।

ভৌগলিক অবস্থানে নিচু হওয়ায় মঠবাড়িয়া উপজেলার অসংখ্য জলাশয় এক সময়ে দেশী মাছের অভয়ারণ্য ছিল। দিন দিন নিত্য নতুন পদ্ধতিতে মাছ নিধনের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক দেশী মাছ। শোল, গজার, কৈ, শিং, মাগুর, পুটি, পাবদা, টেংরা, বাইলা, টাকি, বাইন, বাশপাতা, রুই, কাতল, মৃগেল, ফলি, সর পুঁটি, বোয়াল, ভেটকি, দগরি, মলান্দি, চান্দাগুরা, ভেদা, বকথুরিনা, চিতল, উটকাল, নাপতা চিংড়ি, মলা, ভাটা, ফাইস্যা, বাতসী, চ্যালা, কাঠালি, মৌ কাঠালি, গোদা চিংড়ি ইত্যাদি দেশী মাছে সমৃদ্ধ জলাশয় গুলো এখন মাছ শূন্য হওয়ার পথে। অনেক দেশী মাছের নাম এখন শুধু বইয়ের পাতা আর মৎস্য অফিসের পাতায় আছে, পানিতে নাই।

এখন বর্ষা মৌসুম তাই ধান ক্ষেত, ডোবা, খাল ও পুকুরে থৈ-থৈ পানি। এই পানিতে বৈশাখ মাস থেকে শুরু হওয়া দেশী মাছের প্রজনন চলবে বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। তাই জলাশয় গুলো এখন মাছের ডিম ও রেণুতে পূর্ণ। প্রশাসন থেকে এসব ডিম ও রেণু রক্ষায় কোন উদ্যোগ না থাকায় অসাধু জেলেদের নিধন উৎসব চলছে।

সরকারী আইনে ৪ সেন্টিমিটারের ছোট ফাঁসের যে কোন ফাঁদ দিয়ে মাছ ধরা বে-আইনী হলেও সরেজমিনে বিভিন্ন ধানক্ষেত, ডোবা, খাল ও পুকুরে বে-আইনী বাঁধা (বেন্ধি), বোডা, গড়া ও চরগড়া জালসহ মিহি সুতার কারেন্ট জাল এবং বুচনা চাই দিয়ে নির্বিগ্নে মাছের রেণু ও ডিম নিধন করতে দেখা গেছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে গত ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই মৎস্য সপ্তাহ ২০১৮ উদযাপিত হয়। মৎস্য সপ্তাহ কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় অসাধু জেলেদের মধ্যে তার কোন প্রভাব পরে না।

উপজেলার বড় শৌলা গ্রামে ধানক্ষেতে বোডো জাল দিয়ে মাছ ধরারত আবুল কালাম খাঁ(৬০), বড় শৌলা গ্রামের আরেক জেলে ছালাম হাওলাদার(৬০) এবং সোনখালী গ্রামের আবুল কালামের(১৪) কাছে বোডো জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ কিনা জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান। তারা আরও জানান, এসব অবৈধ জাল ও চাই ধ্বংশে কোন অভিযানও তো হয়নি কখনো।

উপজেলার উত্তর মিরুখালী গ্রামের ডাক্তার বাড়ি খালে আড়াআড়ি ভাবে অবৈধ গড়া জাল দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মাছ নিধন করে আসছে ওই গ্রামের বাবুল মিয়া(৪৫)। অবৈধ গড়া জাল দিয়ে মাছ নিধনের বিষয় জানতে চাইলে বাবুল জানান, গত ৫/৬ বছর ধরে এভাবে মাছ ধরলেও প্রশাসন থেকে তাকে কোন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়নি।

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও প্রধান শিক্ষক (অবঃ) মোঃ নূর হোসেন মোল্লা দেশী মাছ রক্ষায় সরকারী উদ্যোগে মাছ চাষে উদ্ভুদ্ধ করনের পাশাপাশি একাধিক মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হকের জানান, সরকারী অপ্রতুল বরাদ্ধ দিয়ে দেশি মাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও গত মৎস্য সপ্তাহে দেড় লাখ টাকার বুচনা চাই ধ্বংশ করা হয়েছে। মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার সাথে তিনি একমত পোষন করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views
আলোচিত বাংলাদেশ

চকবাজারে ড. কামাল

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে মূল কারণ এবং দায়ীদের