গালির সঙ্গে চলছে পুলিশের বেতের বাড়ি: ‘কাগজ নেন, কিন্ত শুধু শুধু গায়ে হাত তোলেন কেন!’

বাসের ড্রাইভাররা অনেক খারাপ হয়, এটা আমাদের কমন গালি, কিন্তু ওরা যদি আমাদের গন্তব্যে নিয়ে না যায় তাহলে আমাদের ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) ৩.৩০ আমি অফিস শেষে কারওয়ান বাজার থেকে বাসায় ফিরছিলাম স্বাধীন বাসে করে। ড্রাইভারও ভালো মতো মোহাম্মাদপুর সলিমুল্লাহ রোড অর্থাৎ চার রাস্তা মোড় পর্যন্ত আসে, তখন একজন দায়িত্বরত পুলিশ (ব্যাচে তার নাম রানা) ড্রাইভারকে হাত দিয়ে থামতে বলেন। সামনে একটা লেগুনা থাকায় ড্রাইভার প্রথমে না দেখলেও দেখার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু পুলিশটা এসেই ড্রাইভারকে বেত দিয়ে বেধরক মারতে থাকে। কথা বলছে, আর শপাশপ পেটাচ্ছেন। আমি ড্রাইভারের পাশেই বসে ছিলাম বেতের বাড়ির আঘাত আমার হাতেও লাগতে গেছে, যদিও লাগেনি। শুধু ওই বেতের বাতাসটাই হাত ছুঁয়ে গেছে।

পরে দেখছি ড্রাইভার কান্না করে বলছে কাগজ নেন কিন্ত কোনো কথা বার্তা ছাড়াই শুধু শুধু গায়ে হাত তোলেন কেনো? আমিতো আপনাকে দেখেই থামালাম। কিন্তু পুলিশটা গালিতো দিয়েই যাচ্ছেন সঙ্গে চলছে বেতটাও চলছে। পুলিশের বেতের বাড়ি আর থামে না। এবার বাসে থাকা মানুষ হিসেবে নিজেকে খুব জড় পদার্থ থেকে মানুষ বানিয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলাম আপনি ওনাকে এভাবে মারছেন কেন?

পুলিশ সদস্য এবার আমাকেও ঝাড়ি, মহিলা হেনো তেনো বলে। তখনও তার বেতের আঘাত থামছে না। আমি আবারও যথেষ্ট বিনয়ীভাবে প্রশ্ন করলাম কোনো কারণ ছাড়া আপনি ওনাকে কেনো মারছেন। এবার উনি আরো ঝাড়ি। যাই হোক উনি(পুলিশ সদস্য) এবার গাড়ির কাগজ  রেখে গাড়িকে চলে যেতে বললেন। এবার পুলিশের উল্টা কথা বার্তা শুনে আমি বাসে থাকা বেশ কয়েকজনকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পুলিশকে ঘিরে ধরি।

এরপর ওনাকে বলি গাড়ির কাগজ দিবেন এবং ড্রাইভারকে সরি বলবেন। এই কথাতে পুলিশ সদস্য রানা অপেশাদারিত্বের সঙ্গে চেচামেচি করেন। এবং আঙুল তুলে তুলে কথা বলেন। বাসের একটা ভাইয়া পুলিশের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কথাকাটিকাটি করেন যুক্তি দেখিয়ে। ততক্ষণে একজন ভদ্রলোক এসে ব্যাপারটা মিটমাটের চেষ্টা করেন (মে বি পুলিশ সদস্যের কোনো কর্মকর্তা)।

বাসের সেই ভাইয়াসহ সকলের যুক্তি আর প্রশ্নে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্য রানা নিজেই চারপাশ ভিডিও করতে শুরু করে যে তাকে কিভাবে মানুষ ঘিরে আছে। যেহেতু ওনাকে ১০০ টাকা ঘুষ নেওয়ায় প্রথম বাধা আমি। তাই সে হুমকিও দিলো তিনি দেখে নেবেন আমাকে। এটা খুবই অপেশাদারের মতো আচরণ। যাই হোক যে ভদ্রলোক (মে বি পুলিশ সদস্যের কোনো কর্মকর্তা) মিটমাটের চেষ্টা করেন তার কথামত পরে বাসের কাগজ পুলিশ সদস্য রানা দিতে বাধ্য হয়েছে।

হুট করে সব হওয়াতে ছবি তোলার সময় পাইনি। শুধু পুলিশ সদস্য রানার একটা ছবি তুলে রেখেছি যাতে তার মতো একজন লোককে নিজে চিনে রাখতে পারি আর জণগণকে চেনাতে পারি। আমাদের কারো খেয়ে দেয়ে দায় পড়িনি বাসে বসে থেকে রাস্তার পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা করবো। ঝামেলাটা তখনই বাধে যখন চোখের সামনে অনেক বেশি অন্যায় হয়।

তাই সবার প্রতি একটা অনুরোধ, কারো সাথে অন্যায় কিছু হতে দেখলে সবাই মিলে একসাথে দাঁড়াবেন। দেখবেন ১০০ টাকা ঘুষ না পাওয়ার ‘অভিমানে’ একজন পুলিশ অন্য দিন মজুরের শরীরে আঘাত করতে পারবে না।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: পুলিশ বাহিনীতে যেমন রানার মতো খারাপ, ঘুষখোর পুলিশ সদস্য আছেন, তেমনি অনেক ভালো পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। যারা সত্যি মানুষের উপকার করছেন নিরন্তর। তবে, এই রানাদের শাস্তি হওয়াটা জরুরি।)

মুক্তমত: প্রান্তী সারোয়ার।