পুত্র না কন্যা সন্তান চাই? নির্ধারণ করবে দম্পতি নিজেই!

চিত্র বিচিত্র ডেস্ক: ছেলে চাই না মেয়ে চাই সেটা নির্ধারণের একচ্ছত্র অধিপতি সৃষ্টিকর্তা। পৃথিবীর শেষ সময়ে এসেও মানুষ স্রষ্টার এ ইচ্ছাতে নিজের কোনোরকম মতামতও দিতে পারেনি।

তবে গর্ভস্থ সন্তান ছেলে কি মেয়ে তা আল্ট্রাসোনিক শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে জেনে নিতে পেরেছে মাত্র। কিন্তু যদি মা-বাবা নিজেরাই নির্ধারণ করে নেন যে তাদের পুত্র না কন্যা সন্তান চাই তাহলে বিষয়টা কেমন হবে? তেমনটাই দাবি করছেন একদল ব্রিটিশ গবেষক।

একেবারে নিশ্চিত হবার তেমন কোনো প্রক্রিয়া আবিস্কার করতে না পারলেও ব্রিটিশ গবেষকগণ একটি প্রাকৃতিক কৌশল বাতলে দিয়েছেন তাদের প্রতিবেদনে।

ভ্রুন বিজ্ঞান বলে, X ক্রোমোজোম বিশিষ্ট শুক্রাণু দ্বারা ডিম্ব নিষিক্ত হবার কারণে সন্তান মেয়ে হয় আর Y ক্রোমোজোমের কারণে ডিম্ব নিষিক্ত হলে সন্তান ছেলে হয়। প্রতিবেদনটি মূলত এই বিষয়টাকেই সামনে রেখে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক মিলনের সময়ের ওপরে নির্ভর করেছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, মাতৃদেহে ওভিউলেশন বা ডিম্বপাত প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে ও পিতৃদেহের স্পার্ম বা শুক্রাণু কীভাবে একে প্রভাবিত করে সেটাই ঠিক করে দিবে আগত সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে হবে।

সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ ফলাফল হচ্ছে প্রতি মাসে পাঁচ দিনের একটি সময়সীমায় মাতৃ দেহের ডিম্বাপাত ঘটে। এ ডিম্বপাতের তিন দিন আগে থেকে শুরু করে এক দিন পর পর্যন্ত হল গর্ভধারণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

ডিম্ব কার্যকরী থাকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু শুক্রাণু নারীর শরীরে পাঁচ দিন পর্যন্ত কার্যকরী থাকতে পারে।

এভাবে জেনে নেয়া যেতে পারে নারীর গর্ভধারণের সম্ভাব্য সময়। এবার প্রয়োজন শুধু এ সময়ের মাতৃ দেহের X ক্রোমোজোমটি পুরুষ দেহের Y দ্বারা নিষিক্ত হবে নাকি X ক্রোমোজোম দ্বারা সেটি নিয়ন্ত্রন করা।

বিজ্ঞান বলে, Y শুক্রাণু তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট, কিন্তু বেশ দ্রুতগামী। তারা খুব বেশিক্ষণ জীবিত থাকে না। এ দিকে X শুক্রাণু বেশ বড় এবং ধীরগতির, কিন্তু তারা Y এর তুলনায় দীর্ঘজীবি।

এবার সন্তান হিসেবে ছেলে চাইলে Y শুক্রাণু যাতে খুব দ্রুত ডিম্বের কাছাকাছি যেতে পারে এর জন্য মাতৃ দেহের যেদিন ডিম্বপাত হচ্ছে সে দিনেই মিলিত হওয়াটা জরুরি। না হলে শুক্রানুটি আর তেমন কার্যকরী থাকবে না।

আবার দম্পত্তি যদি কন্যা সন্তান চান তবে ডিম্বপাতের দুই থেকে তিন দিন আগে মিলিত হতে হবে। এতে ডিম্বপাত হবার আগেই সব Y শুক্রাণু মারা যাবে, ফলে সন্তান ছেলে হবার সম্ভাবনা কমে যাবে অনেকটাই।

বেঁচে থাকবে শুধু মাত্র X শুক্রাণুগুলি। ফলে কন্যা সন্তান হবার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।

তবে ব্রিটিস বিজ্ঞানীদের মতে, এটা শুধুই একটা চালাকি মাত্র। এটা কোনো আবিস্কার নয়। তারা আরও বলেন, প্রতিবেদনটি কোনোভাবেই ইচ্ছাধীনভাবে কন্যা বা পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টিকে উৎসাহিত করার জন্যে নয়। এটি একটি গবেষণালব্ধ তত্ব।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views