হাসপাতালে নবজাতক সন্তানকে ফেলে পালালেন মা

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেলিভারি কক্ষে এক প্রসূতি মঙ্গলবার বিকেলে তার ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতক সন্তানকে সবার অগোচরে বালতির মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে উদ্ধার করে মহিলা ওয়ার্ডে রাখার পর রাতে সেখান থেকে ওই নবজাতক চুরি হয়ে যায়। আর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার দু’জন নার্সকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর বেডের রোগী সালেহা বেগম জানান, মঙ্গলবার দুপুেরর দিকে বোরকা পরা এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিয়ে ডেলিভারি কক্ষে প্রবেশ করেন নার্স হ্যাপি রায়, ঝর্ণা রানীসহ দুই আয়া।

এর পর বিকেল ৩টার দিকে ওই নারী একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। বিকেল ৪টার দিকে বোরকা পরা প্রসূতি বেরিয়ে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে তিনিসহ আরও কয়েকজন রোগী ডেলিভারি কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখেন, একটি বালতির মধ্যে তুলা দিয়ে জড়ানো রয়েছে ওই নবজাতক।

বুধবার মহিলা ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স নাজমুন নাহার নাজমা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার পর নার্স হ্যাপির কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। কিন্তু এ সময় হ্যাপি তাকে ওই নবজাতক সম্পর্কে কিছুই জানাননি। তিনি আরও জানান, রাত ১০টার দিকে নার্স হ্যাপি ও আয়া পূর্ণিমা ওই নবজাতককে মহিলা ওয়ার্ড থেকে নিয়ে যান। বিষয়টি জরুরি বিভাগের ডা. রাজীব কুমার পালকে অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজীব কুমার পাল জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে দেখা যায়, নবজাতককে আয়া পূর্ণিমা কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এ সময় পূর্ণিমার পাশে নার্স হ্যাপিকেও দেখা যায়। হ্যাপি রায় জানান, নবজাতককে তার মা-বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই নবজাতকের মা-বাবার পরিচয় সম্পর্কে নার্স হ্যাপি রায় বিস্তারিত কিছুই জানাতে পারেননি।