এখনো জমে উঠেনি সিলেটের কোরবানির পশুর হাট!

আবুল হোসেন, সিলেট থেকে :: আর মাত্র কয়েকদিন পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো জমে উঠেনি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের কোরবানির পশুর হাট। বাজারে প্রচুর পশুর সমাগম ঘটলেও হাটগুলোতে নেই ক্রেতা। তবে শেষমুহূর্তে বেচাকেনা জমার আশায় বসে আছেন বিক্রেতারা।

সরেজমিনে সিলেট নগরীর প্রধান বড় পশুর হাট কাজিরবাজর ঘুরে দেখা যায়, দেশেরবিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় বাহারি রংয়ের গরু নিয়ে বসে আছেন পাইকাররা। এছাড়া ভারত ও নেপালি গরুরও সমাগম রয়েছে বাজারে। কিন্তু ক্রেতা কম। যারা আসছেন গরু দেখে দরদাম করেই চলে যাচ্ছেন। বিক্রি নেই বললেই চলে। খুলনা থেকে কাজিরবাজারে আসা পাইকার মো. আমির আলী বলেন, বড় বড় গরু নিয়ে এসেছি। চার দিনে মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। দেশে বন্যার পভাবে মানুষ অভাবে দিন কাটাচ্ছে। তাই এর প্রভাব কোরবানির পশুর বাজারে পড়েছে। এছাড়া ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে আসার সময় নিরাপত্তার অভাবও রয়েছে বলে জানান ফজর আলী।

তিনি বলেন, বাজারে আসার পথে রাস্তায় গরুর ট্রাক আটকে জোর করে ছোট ছোট বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। লালাবাজারের পশু বেপারি ময়না মিয়া বলেন, তিন দফা বন্যা মানুষের সব কেড়ে নিয়েছে। প্রতিটি গৃহস্থ পরিবার অভাব অনটনে দিন পার করছে। তাই গরুর বাজারে ক্রেতা নেই। ময়না মিয়া আরো বলেন, তিন দফা বন্যায় সিলেটও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে গবাদিপশুর খাবার সংকট, রাখার জায়গার অভাবে অনেক গৃহস্থ তাদের গরুছাগল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এছাড়াও বন্যার তোড়ে অনেক বাণিজ্যিক গরুর খামার ভেসে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির বাজারে। কাজিরবাজার পশুহাটের ম্যানেজার লুলন মিয়া বলেন, গত ২২/২৩ বছর থেকে এ বাজারেই দায়িত্ব পালন করছি। তবে এবারের মতো মন্দাবাজার আর কোনো বছর দেখিনি। তবে শেষ মুহূর্তে বাজার কিছুটা জমতে পারে বলে আশাবাদী লুলন মিয়া। সিলেট জেলায় এবার ১২টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে বৈধ পশুর হাটের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। জেলার কোথাও অবৈধভাবে পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না এবং রাস্তায় জোরপূর্বক গরুবাহী ট্রাক আটকানো যাবে না বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ)আ ক ম আক্তারুজ্জামান।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানান, সিলেট মহানগরী ও শহরতলীতে ১০ বৈধ পশুর হাট রয়েছে। এগুলো হলো, সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানার কাজীর বাজার পশুর হাট, বিমানবন্দর থানার লাক্কাতুরা চা বাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার পশুর হাট, কামাল বাজার পশুর হাট, নাজিরবাজার পশুর হাট, মোগলাবাজার থানার রেঙ্গা হাজীগঞ্জ বাজার, জালালপুর পশুর হাট, রাখালগঞ্জ বাজার পশুর হাট, শাহপরান (রহ.)থানার পীরের বাজার পশুর হাট ও খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ।

এছাড়া সিটি করপোরেশন টেন্ডারেরমাধ্যমে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট, চালিবন্দর, ঝালোপাড়া ও কদমতলী এলাকায় আরও চারটি অস্থায়ী পশুরহাটের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর বাইরেও নগরীতে অন্তত ১৫টি অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বসানো এসব অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদেও নেই তেমন তৎপরতা।

এছাড়াও অবৈধ পশুরহাট বসেছে শাহী ঈদগাহ, লালটিলা, কয়েদীর মাঠ, আম্বরখানা (আবাসন হাউজিং), আখালিয়া, চন্ডিপুল, মাদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, দর্শন দেউড়ী, হাউজিং এস্টেট, টিলাগড়, বালুচর, শাহী ঈদগাহ, রিকাবীবাজার, মেন্দিবাগ জালালাবাদ গ্যাস অফিসের পেছনে, কদমতলী ফল মার্কেটের সামনেও। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তউপ-কমিশনার আব্দুল ওয়াহাবজানান, অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র অবৈধ হাট উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views
আলোচিত বাংলাদেশ

চকবাজারে ড. কামাল

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে মূল কারণ এবং দায়ীদের