কোরবানি উপলক্ষে মজা করে গরুর মাংস খাবার পরিকল্পনা থাকলে…!

আপনার স্বাস্থ্য ডেস্ক :: গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া প্রভৃতি পশুর মাংসকে রেড মিট বা লাল মাংস বলে। এতে মায়োগ্লোবিনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে বলে কাঁচা অবস্থায় টকটকে লাল দেখায়। পুষ্টিগুণের বিচারে লাল মাংস অনেক সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন বি, জিংক এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা শরীর গঠনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর চর্বি থাকে বলেই এগুলো বেশি সুস্বাদু। খুব অল্প মানুষই লাল মাংস খাওয়ার লোভ ছাড়তে পারে।

গরুর মাংস সবচেয়ে বেশি মজা কারণ গরুর মাংসে প্রচুর চর্বি থাকে। চর্বি থাকে বলেই এটা ক্ষতিকর। লাল মাংসে থাকে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল। প্রোটিনের সমৃদ্ধ উৎস এই লাল মাংস হলেও এগুলোতে সম্পৃক্ত চর্বির (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) মাত্রা থাকে বেশি।  থাকে প্রচুর খারাপ কোলেস্টেরলও। ফলে বেড়ে যেতে পারে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।

তাই লাল মাংস রান্না করে খেতে হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রোগী, শিশু ও বৃদ্ধদের খাওয়াতে হলে এসব মাংস একটু চর্বিমুক্ত করে নেওয়া ভালো। সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ খেলেও চর্বি কীভাবে এড়ানো যায় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। অনেকে ইচ্ছে করেই চর্বি খেতে ভালোবাসে। কিন্তু, এর মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে খেয়াল রাখা উচিত।

১. লাল মাংস কাটার সময় ছোট ছোট টুকরো করুন। প্রতিটি টুকরো হতে পারে তিন থেকে চার আউন্স। এতে ভালো পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যাবে এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম পরিমাণে থাকবে।

২. মাংস রান্নার আগে বাড়তি চর্বি ফেলে দিন।

৩. ভালো করে হাত ধুয়ে মাংস প্রস্তুত করুন। রান্নাঘরের জন্য পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন। তোয়ালে না ধুয়ে ব্যবহার করলে জীবাণু ছড়াতে পারে।

৪. মাংস কাটার জন্য চপিং বোর্ড ভালো করে ধুয়ে নিন এবং কাটার পরও চপিং বোর্ডকে ধুয়ে রাখুন।

৫. মাংস রান্না করার আগে ফ্রিজ থেকে বের করে মাংস কিছুক্ষণ বাইরে রেখে দিন, যাতে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে। এর ফলে মাংস বাইরে ও ভেতরে ভালোভাবে সিদ্ধ হবে।

৬. রান্নার সময় সাধারণত মাংস থেকে চর্বি বের হয়। তাই মাংস রান্নার সময় বেশি তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

৭. লাল মাংস রান্নার সময় কম লবণ ব্যবহার করবেন। এ ছাড়া উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম রয়েছে এমন কোনো খাদ্য উপাদান না ব্যবহার করাই ভালো।

৮. অতিরিক্ত মসলা দিয়ে মাংস রান্না করবেন না।

৯. মাংস রান্নার সময় অল্প পরিমাণে লেবুর রস দিতে পারেন।

১০. লাল মাংস রান্নার ভালো পদ্ধতি হচ্ছে বেক, রোস্ট, গ্রিল বা সিদ্ধ করা। এটি চর্বি দূর করতে সাহায্য করবে এবং খাবারকে স্বাস্থ্যকর করবে।

১১. মাংস সম্পূর্ণভাবে রান্নার আগে সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিতে পারেন। এতে অতিরিক্ত চর্বি দূর হবে।

১২. মাংস খাওয়ার সময় সালাদ খেতে পারেন। এ ছাড়া লেবুমিশ্রিত উষ্ণ গরম পানিও পান করা যেতে পারে।

১৩. লাল মাংস সীমিত পরিমাণে খান। বেশি খেলে শরীরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। চল্লিশোর্ধ্ব মানুষদের ডাক্তাররা লাল মাংস না খাওয়ারই পরামর্শ দেন। একেবারে না পারলেও কিছু কিছু কমান।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like: