সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা বাল্য বিবাহ!

৯:৫৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ২৪, ২০১৮ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি:  ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে বাল্য বিবাহ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে। শত চেষ্টা করেও কিছুতেই তা রোধ করা যাচ্ছেনা। জানুয়ারী-২০১৮ থেকে আগষ্ট পর্যন্ত সরকারী হিসাব মতে ৮টি ও বেসরকারী হিসাবে ২০১৭-১৮ মিলিয়ে ৩৯ টি বিবাহ সংঘটিত হয়েছে।

সমাজিকভাবে হীন ও অর্থ-বিত্তহীন পরিবারেই সাংসারিক নানান ধরনের টানাপোড়েন এর প্রেক্ষিতে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পিতা-মাতা সব সময় শংকিত থাকার কারণে অপ্রাপ্ত বয়সী এসব ছেলে-মেয়েদের বিবাহ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের সংখ্যাই বেশী বলে পরিসংখানে জানা যায়।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নে ৫টি, সোনাপুর ৩টি, যদুনন্দী ৩টি, মাঝারদিয়া ৪ টি, গট্রি ৫ টি, রামকান্তপুর ৩ টি, আটঘর ৪টি, ও ভাওয়াল ইউনিয়নে ২ টি বাল্য বিবাহ সংঘটিত হবার খবর সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে। এর মধ্যে রেজিষ্ট্রি ছাড়া কোর্ট ম্যারিজ ও কলেমা ম্যারিজ এর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। আবার পিতামাতার অগোচরে অপরিণত বয়সে প্রেমিকের হাতধরে পালিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারিজ করেছে বল্লবদী ইউনিয়নে ২ টি, যদুনন্দি ইউনিয়নে ২ টি, সোনাপুর ইউনিয়নে ১ টি, মাঝারদিয়া ইউনিয়নে ২ টি গট্রি ইউনিয়নে ২ টি, রামকান্তপুর ইউনিয়নে ১ টি।

এদের মধ্যে কেউ আবার পালিয়ে গিয়ে আর গ্রামে ফিরে না এসে শহর এলাকায় বিভিন্নভাবে রিক্সা চালিয়ে, ঠেলাগাড়ি ঠেলে, মুটে মজুরের কাজ করে, বাসাবাড়িতে ও গার্মেন্টেসে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার প্রি-ম্যাচিউর এইজ এমন, প্রেমে প্রতারিত হয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে অথবা বিষপানে আত্মহত্যার মতো কাহিনিও আছে ২/৪ টা।

সূত্র বলছে এদের মধ্যে দিনমজুর, নিরক্ষর কৃষক, ভ্যানচালক, নছিমন-করিমন চালক, স্থানীয় গ্রাম্য বাজারের চা-বিক্রেতা ১৫/১৬ বছর বয়সী ছেলেদের সংখাই বেশী। আবার মাদকাসক্ত, বখাটে ছেলেদের উত্তক্ত-বিরক্তির কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েও অনেক সময় অভিবাবক পক্ষ নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারছেনা। যার কারণে স্কুলে ৬ষ্ট/৭ম শ্রেণী পড়–য়া মেধাবি মেয়েদেরকে বাধ্য হয়েই বিবাহ দিতে হচ্ছে। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন যাতে না হতে হয়, গ্রাম্য সালিস দরবারে পড়ে মান-ইজ্জত হারাতে যেন না হয় সেটাও বাল্য বিবাহ সম্পাদনের অন্যতম কারণ।

বাল্য বিবাহ সম্পাদনের ক্ষেত্রে ম্যারিজ রেজিষ্টারদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও মৌলভী ডেকে কলেমা পড়িয়ে অধিকাংশ বিবাহ সম্পাদন করার প্রথাটি আজও চালু আছে। পাশাপাশি অবুঝ দু-জন ছেলে-মেয়ে পালিয়ে গিয়ে উকিল দ্বারস্থ হলেই ৫/১০ হাজার টাকার বিনিময়ে জন্মনিবন্ধন কার্বনকপি করে নোটারি পাবলিক এর মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদন করার রমরমা বাণিজ্যিক প্রথা কোর্ট অঙ্গনে চালু আছে।

এদিকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্থানীয় থানা, শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে উপজেলার মাসিক সভায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করলেও ভালো সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা।

বিষয়টি নিয়ে সালথা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাকতী দত্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে জনবল সংকট। একজন অফিস প্রধান ও একজন সহকারী, এ ছাড়া নেই কোন ট্রন্সপোর্টের ব্যবস্থা। যার কারণে বাল্য বিবাহের খবর পেলেও যথা সময়ে সেখানে পৌঁছতে পারিনা , তবুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গণ্য-মান্যদের অবহিত করে নিরসন করার চেষ্টা করি।