মাদারীপুরে বিএনপির প্রতীকী অনশনে পুলিশের বাধা

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মাদারীপুরে প্রতীকী অনশন পালন করেছে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন শুরু হলেও পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়।

জেলা বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসা, সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতীকী অনশনে আয়োজন করা হয়। এতে জেলা উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

পুলিশ বিএনপির এই কর্মসূচির শুরুর আগেই নির্ধারিত স্থানে এসে অবস্থান নেয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি আরম্ভ করার পরে কয়েকজন নেতাকর্মী বক্তব্য রাখেন। হঠাৎ পুলিশ এসে নেতাকর্মীদের ঘিরে ধরে। পরে পুলিশ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিলে কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।

সমাবেশ পণ্ড হওয়ার পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ একটি কর্মসূচি করতে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের কর্মসূচি চলা অবস্থায় আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে বলে। এমনকি পুলিশ আমাদের ওপর চড়াও হয়ে ওঠে। ফলে তাদের কারণেই আমাদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার এসআই উত্তম কুমার বলেন, বিএনপির প্রতীকী কর্মসূচির নামে সড়কে বিশৃঙ্খলা করছিল। তবে তাদের কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ তাদের কোনো বাধা দেয় নাই। তাদের সড়ক ছেড়ে কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছিল।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী নেতৃত্বে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মজিবুর রহমান হাওলাদার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর হোসেন, রাজৈর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহাব আলী মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, যুবদলের সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন খান।

এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুনশি, শিবচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহর গোমস্তা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, জেলা বাস্তুহারা দলের সভাপতি বুলি বেগম প্রমুখ।

কর্মসূচিতে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী বলেন, এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশে সরকারের শাসন নেই। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করছে। সরকারের অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে কয়লা চুরি, বাংলাদেশে ব্যাংকে স্বর্ণ গায়েবের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেই চলেছে। বাংলার মানুষ এসব থেকে মুক্তি চায়। দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচতে চায়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ বেছে বেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করছে, মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এসবের থেকে আমরা নিস্তার চাই।