সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধরলার পাড়ে কাশফুলের শুভ্রতা

২:৫৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ দেশের খবর, রংপুর, সুখবর প্রতিদিন

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:ধরলার নদীর র্তীরবর্তী মাঠ জুড়েই কাশফুলের সমাহার। ধরলার তীরে কাশফুলের শুভ্রকায় বিমোহিত এ দঙ্গল ছেলে-মেয়ে মনের আনন্দ উচ্ছ্বাস মেতে উঠেছে। শনিবার বিকালে ফুলবাড়ী উপজেলার শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর উত্তর পার্শ্বে গিয়ে দেখা গেছে,কাশফুলের বাগানে তরুন-তরুনীসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন কাশবনে প্রাণ ভরে আনন্দ উচ্ছ্বাস করছে।

এ যেন বাঙালীদের মনে দোলা দিতে বর্ষাকাল অতিক্রম করে শুভ্রতার প্রতিক হয়ে প্রতিবছর ফিরে আসে শরৎকালের এই দিনে। ধরলার চরে জেগে উঠা র্তীরবর্তী এক বৈচিত্রময় মাঠ জুড়ে ফোটে সাদা সাদা কাশফুল। তাই তো বাঙালীর হৃদয়ে আনন্দের আশা জাগায় শরতের এই কাশফুল। এ কাশফুল শিশিরভেজা মাঠ জুড়ে সবুজ ঘাস,নীল আকাশ ও সাদা কাশফুল মনের হৃদয়ে শিহরণ জাগে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্ত বর্তী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নেই হল ধরলা নদীর সাথে সংযোগ।

ধরলার র্তীরবর্তী ইউনিয়ন গুলো হল নাওডাঙ্গা,শিমুলবাড়ী,ফুলবাড়ী,বড়ভিটা। চারটি ইউনিয়নে ধরলা নদীর তীরে ধু-ধু বালুচরের মধ্যে বিভিন্ন বির্স্তীণ উচু জায়গা জুড়ে আপন মনে ফুটেছে শরতের দাদা কাশফুল। কাশফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত পুড়ো বাগান জুড়ে। প্রতিদিনেই এই সুগন্ধ পাওয়ার আশায় অনেক স্কুল,কলেজ গামী তরুন-তরুনীরাসহ অনেক দুর দুরান্ত থেকে মনের একটু প্রশান্তির জন্য ছুটে যায় স্বপ্নের কাশফুলের বাগানে।

আমাদের সোনার বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে কাশফুল অন্যতম। কাশফুল আমাদের অনেক কিছুই শিখিয়েছে কোমলতা ও সরলতা। র্তীরবর্তি নদীগুলোর ধু-ধু বালুচরের কাশফুল বাগানে নির্মল প্রকুতিতে মানুষজন বার বার ফিরে যায়। তবে পুথিবীর কোন দেশে ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের ফুলের মত কাশফুলে কদর আছে কিনা জানা নেই। তবে বাংলাদেশের মানুষের মনে জয় করে নিয়েছে ঘাসজাতীয় কাশফুল। প্রকৃতির শত শত প্রেমীদের কাছে শরতের কাশফুল ব্যাপক হারে জনপ্রিয়।

তাই তারা কাশবনে মনের শুভ্রতার খোঁজে বার বার ফিরে আসে। সাদা কাশফুল আর নীল সবুজ আকাশ দেখে মুগ্ধ বিহলতায়। সেখানে খুঁজে পায় লাল সবুজের বিজয়ের পতাকা ও আমার হৃদয়ের বাংলাদেশ। আমাদের এই বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির কাশফুল আছে।

সমতলে এক প্রজাতি কাশফুল এবং পাহাড়ে দুই প্রজাতির কাশফুল। তবে সবার কাছে সমতলের প্রজাতির কাশফুল বেশি জনপ্রিয় এবং খুব সহজেই কাছাকাছি দর্শনযোগ্য বলে অনেকে জানান। বাংলাদেশের সব নদীর র্তীরে প্রাকৃতিক জলাশয়ের ধারে বেশি কাশফুল জন্মে। আশ্বিনের এই দিনে প্রকৃতিতে শরৎকালে নীল আকাশজুড়ে এক নরম সাদা মেঘের ভেলা হয়ে আপন মনে ঘুরে বেড়ায় জেলেদের পালতোলা নৌকায় চড়ে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভেলা বাড়ী থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শরিফা খাতুন ও তার ছোট বোন আশামনি এবং একই উপজেলার আদর্শপাড়া থেকে শিক্ষার্থী শাহানাজ খাতুন জানান,মুলত আমরা আমাদের পরিবারসহ শেখ হাসিনা ধরলা সেতু দেখতে এসেছি। সেতুর উত্তর পাশে কাশফুল দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তাই কাশবনের কাশফুল দিয়ে অনেক মজা করলাম। কাশবনে মজা করতে খুবেই ভাল লাগলো আমাদের।

ধরলার তীরবর্তি স্থানীয় শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান, সবুজ মিয়া, শাকিল , লীজা ,হাসি জানান,যতদিন এই কাশফুল থাকবে,আমরা ততদিনেই কাশবনে গিয়ে মজা করবো। কাশবনে মজা করতে খুবেই ভাল লাগে আমাদের । বাড়ীর পাশে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর তীরে কাশফুল হওয়ায় আমরা খুবেই মজা করি।