ভন্ড পীরের নির্দেশে একে অন্যের স্ত্রীদের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়ায় মুরিদরা!

পাবনা প্রতিনিধি :: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য পাবনার চাটমোহরে এক ভন্ড পীরের মুরিদরা দিনের পর দিন গ্রামের মধ্যে নারীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। কথিত ভন্ড পীরের মুরিদ হয়ে গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে পীরের উপস্থিতিতে রাতের বেলায় জিকির করার নামে মুরিদরা একে অপরে তাদের নিজের স্ত্রীকে অন্য মুরিদদের সাথে দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন ন্যাক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনা এলাকার মানুষের মুখে মুখে। কেউ এই অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ধরনের হুমকী ধামকী সহ নির্মম নির্যাতন করার মত ঘটনাও ঘটেছে।

এমন সব ঘটনার পরে গত কয়েকদিন আগে উপজেলার নটাবাড়িয়া গ্রামের ভন্ড পীরের মুরিদ ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী লতা খাতুনকে (৩০) স্বামীর সহায়তায় অপর এক মুরিদ ধর্ষণ চেষ্টা করলে সে চিৎকার দিয়ে লম্পটদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসে। বিষয়টি পরে তার স্বামীকে জানিয়ে এর বিচার চাইলে উল্টো তাকে মারপিট করা সহ কাউকে কিছু না বলার হুমকী দেন এবং পরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সে ঘটনার দুদিন অতিবাহিত হলেও এলাকায় কোন বিচার না পেয়ে গৃহবধূ লতা তার স্বামী সহ অভিযুক্ত ভন্ড পীরের মুরিদ ৪জন কে আসামী করে চাটমোহর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দেয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারনে থানা পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা বলে জানান ভুক্তভোগী গৃহবধু লতা খাতুন।

অভিযুক্ত আসামীরা হলেন- গৃহবধূ লতার স্বামী উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামের মো. হোসেন আলীর ছেলে ওয়াহেদ আলী (৩৫), নিমাইচরা ইউনিয়নের ধানকুনিয়া গ্রামের মৃত. বাছের আলীর ছেলে বোরহান আলী (৪২), মৃত. আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে মোন্নাফ আলী (৩৫) ও মৃত. ছবু সরকারের ছেলে মওলা হোসেন (৪০)। আর সেই কথিত ভন্ড পীর হল, উপজেলা ছাইকোলা ইউনিয়নের বেড়াপাড়া এলাকার মৃত. আসান পীরের নাতী তাপস পীর।

এ বিষয়ে নির্যাতিত গৃহবধূ লতা খাতুন বলেন, প্রায় দুই বছর আগে আমার স্বামী ছাইকোলা বেড়াপাড়া এলাকার তাপস পীরের মুরিদ হয়। সেই পীরের মুরিদ হওয়ার পর থেকে অন্য আরও সব মুরিদের স্ত্রীদের সাথে অবৈধ মেলামেশা শুরু করে। গত সপ্তাহে রাতের বেলায় আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রামের এক মুরিদের বাড়িতে প্রথম আমাকে আমার স্বামী নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি নারী পুরুষদের জঘন্যতম কীর্তি। রাতের এক সময় ঐ পীরের এক মুরিদ আমাকে জোর পূর্ব শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। আমি অনেক কষ্টে সেখান থেকে ইজ্জত নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি। বিষয়টি আমার স্বামীকে বললে সে আমাকে গালিগালাজ ও পরে মারধরও করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কেউ এর বিচার না করায় আমি চাটমোহর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ দেয়া পরে পুলিশ আসে সাংবাদিক আসে কেউ কোন কিছু করেনি। উল্টো আমাকে ঐ পীরের মুরিদরা নানা ভাবে হুমকী ধামকী সহ মেরে ফেলার হুমকীও দিচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে কথিত তাপস পীর সংবাদ না প্রকাশ করতে অনুরোধ করে বলেন, এই ঘটনা শোনার পরেই আমি ঐ দম্পতিকে আমার মুরিদের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। তাদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেন আর কোনদিন আমার মুরিদ বলে পরিচয় না দেয়।

গৃহবধূ শ্লীলতাহানী ও একে অন্যের স্ত্রীর সাথে অবৈধ মেলা মেশার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার হাজার হাজার মুরিদ রয়েছে, হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন সমান নয় তেমননি সকল মুরিদের মন মানষিকতা এক হওয়ার কথা নয়। আর মুলত বিষয়টি ঐ এলাকার দুটি গ্রুপের দির্ঘ দিনের বিবাদেরই অংশ হিসেবে এই অপপ্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) তাপস কুমার বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত যারা আছেন উভয় পক্ষকে আজ (মঙ্গলবার) সন্ধায় আমার অফিসে ডাকা হয়েছে। প্রথমত আমি উভয় পক্ষের নিকট থেকে মৌখিক ভাবে কথা গুলো শুনবো। বিষয়টি এখনও আমাদের তদন্তধীন আছে। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views
আলোচিত বাংলাদেশ

চকবাজারে ড. কামাল

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে মূল কারণ এবং দায়ীদের