এটা ‘হাত খাওয়া রোগ, ওষুধ খেলেও রোগ সারে না’!

বাগেরহাট প্রতিনিধি: শামুকের ওপর নির্ভরশীল জীবিকা বিচিত্র ধরনের। বিলাঞ্চল থেকে শামুক সংগ্রহ, ঘের মালিকদের কাছে পৌঁছানো, শামুক ভাঙা, শামুকের খোসা সংগ্রহ, খোসা পুড়িয়ে পানে খাওয়ার চুন তৈরি ও বাজারজাতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। শামুকের শক্ত খোলস ভেঙে ভেতরের মাংস চিংড়ি ও সাদা মাছের খাবার হিসেবে মৎস্য ঘেরে দেওয়া হচ্ছে। এতে মাছের ওজন ও শরীর দ্রুত বৃদ্ধি হয় বলে জানান মৎস্য চাষিরা।

শামুক নিধন উৎসবে (!) প্রতিদিন মারা হচ্ছে লাখ লাখ শামুক। শিশুরাও যুক্ত হচ্ছে এ কাজে, তারা স্কুলবিমুখ হয়ে পড়ছে। শামুক মেরে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি তা পুড়িয়ে পানে খাওয়ার চুন তৈরি হচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বাতাস, মাটি ও পানি।

এদিকে অজানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শামুক শ্রমিকরা। আক্রান্তরা বলছেন এটা ‘হাত খাওয়া রোগ, ওষুধ খেলেও রোগ সারে না’! চিকিৎসকরাও রোগের নাম নির্দিষ্ট করে নির্ণয় করতে পারছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, শামুক ভাঙার পেশা বন্ধ না করলে রোগীদের হাতে পচন ধরে ভবিষ্যতে গ্যাঙরিনের মতো ভয়ংকর রোগ ছড়াতে পারে।

বায়ু দূষণের শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের নালিশ করার কোনো জায়গা নেই। বাগেরহাট জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরসহ আইন সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে উদাসীন। শামুকের প্রাণ-হরণের যজ্ঞক্ষেত্র মিষ্টিপানির ঘেরপ্রধান বাগেরহাটের চিতলমারীসহ পার্শ্ববর্তী ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলা। এই এলাকায় শামুক আসে গোপালগঞ্জসহ উত্তরের বিভিন্ন বিল-মাঠের জলাশয় থেকে।