পৃথিবীর রহস্যময় কিছু স্থান, যেখানে কখনো যেতে পারবেন না!

চিত্র-বিচিত্র ডেস্ক :: বরফ ঢাকা পাহাড়ের শৃঙ্গ হোক বা সবুজ বনভূমি অথবা নীল গভীর সমুদ্র কোথায় নেই মানুষের পদচারণা। কখনও পিঠে বেলুন লাগিয়ে ঝাঁপ দিয়েছে আকাশ থেকে, কখনও বা পিঠে অক্সিজেন ঝুলিয়ে পা রেখেছে কঠিন পর্বতশৃঙ্গে। পৃথিবীর বেশিরভাগ জায়গাতেই নিজের পায়ের ছাপ রেখেছে মানুষ। তবে পৃথিবীতে এমন বেশ কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে চাইলেও যাওয়া যায় না। যেমন লন্ডনের রানির ঘর কিংবা আমেরিকায় কোকা কোলার রেসিপি ভল্ট, এগুলিতে সাধারণ মানুষ চাইলেই যেতে পারে না। এগুলোই পৃথিবীর নিষিদ্ধ জায়গা। আজ আপনাদের জানাবো বিশ্বের এমন কিছু জায়গার তথ্য যেখানে সাধারণের যাওয়া নিষেধ।

ব্রাজিলের সাও পাওলোর স্নেক আইল্যান্ড: ব্রাজিলে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটির নাম থেকেই বুঝা যায় যে কেন এটি নিষিদ্ধ। এই দ্বীপে প্রায় ৫০০০ এর ও বেশি প্রাজাতির বিভিন্ন বিষাক্ত সাপ রয়েছে। ৯৩ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপের প্রায় ১০ বর্গফুটে রয়েছে এক থেকে পাঁচটি সাপ। এই দ্বীপে যে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

আমেরিকার বোহেমিয়ার গ্রোভ: মন্টে রিও ২৭০০ একরের এই ক্যাম্পগ্রাউন্ড শুধুমাত্র জুলাইয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ও প্রশাসনের সদস্যরা আসেন এই মাঠে। মনে করা হয়, ১৯৪২ সালের ম্যানহাটন প্রকল্পের আলোচনা হয়েছিল এখানে। সাধারণের প্রবেশ নিষেধ।

এরিয়া ৫১: আমেরিকার একটি অতি গোপনীয় স্থান, যেখানে সাধারণ মানুষের যাওয়া একদমই নিষিদ্ধ। এটি আমেরিকার নেভাদা মরুভূমির একটি বিরাট অংশ জুড়ে অবস্থিত। তবে কেন এই জায়গা সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ, তা নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। কারো মতে এই জায়গাটিতে আমেরিকার গোপন অস্রাগার ও সৈনিকদের স্পেশাল ট্রেইনিং দেয়া হয়। আবার কারো মতে এখানে এলিয়েন শিপ/স্পেসশিপ অবতরণ করে, যা শুধু আমেরিকান সরকারই জানে।

ভ্যাটিকান সিটির সিক্রেট আর্কাইভ: যুগ যুগ ধরেই ভ্যাটিকান সিটি মানুষের রহস্যের খোরাক যুগিয়েছে,সেই যীশুর আমলের আগ থেকেই পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভ্যাটিকান। খুব কম সংখ্যক স্কলারই এই জায়গায় ঢুকতে পারেন, তাও পোপের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে। এখানে প্রায় ৮৪০০০টি বই আছে আর এই জায়গাটি প্রায় ৮৪ কি:মি: দীর্ঘ। ধারনা করা হয় খ্রিষ্টান, মেসনারি, প্যাগান আরও অনেক ধর্ম আর মতবাদের অনেক গোপন ডকুমেন্ট এখানে সংরক্ষিত আছে।

কিং শি হুয়ানের সমাধিস্থল: সশস্ত্র প্রহরা রয়েছে এখানে।সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। কেউ বলেন, সমাধিস্থলে রয়েছে পারদের সমাহার, যা ক্ষতিকারক। কেউ বলেন, সমাধিস্থ করা হয়নি নাকি কিছু মৃতদেহ।

আমেরিকার নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ড: প্রথমে ইয়েলো ফিভার, তার পর স্মল পক্স ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রোগীদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল ছিল। তার পর হাসপাতালগুলিও পরিত্যক্ত। বন্ধ করে দেওয়া হয় এই দ্বীপটি।

ইতালির পোভেগ্লিয়া: ইতালির ‘মোস্ট হন্টেড প্লেস’। অশরীরীরা নাকি এখানেই থাকেন, বলা হয় এমনটাই। উনিশ শতকে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করা হত, এই দ্বীপে। সেখানে এক চিকিৎসক নাকি রোগীদের উপর গবেষণা করতেন! এর পরই রটনা শুরু হতে থাকে। বিশেষ অনুমতিপত্র ছাড়া প্রবেশ নিষেধ।

রাশিয়ার মেজগোরে: উরাল পর্বতের কাছে ছোট্ট শহরটি ১৯৭৯ সালে তৈরি করা হয়েছে। গোটা শহরে প্রবেশ নিষেধ। মনে করা হয়, এটি নিউক্লিয়ার মিসাইল সাইট। তাই প্রবেশ করা যায় না। দুই ব্যাটেলিয়ন সেনা প্রহরা দেয় এই শহরে। ক্রেমলিনের দাবি, এটিতে খনি রয়েছে, আর কিছু নয়।

অস্ট্রেলিয়ার হার্ড আইল্যান্ড: ম্যাডাগাস্কার ও অ্যান্টার্কটিকার মাঝে রয়েছে এটি। অস্ট্রেলিয়ার এই দ্বীপটি বরফে আবৃত। রয়েছে সিল মাছ ও পেঙ্গুইনের আনাগোনা। প্রবেশ নিষেধ এই দ্বীপে।

আইসল্যান্ডের সার্ৎসে আইল্যান্ড: এই দ্বীপটি আইসল্যান্ডের উপকূল থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। এটি ইউনেস্কো ওয়ার্লড হেরিটেজ সাইট। কিন্তু অসংখ্য গাছ ও ৩৩৫টির বেশি অমেরুদণ্ডী শ্রেণির প্রাণীর সমাবেশ রয়েছে এখানে। বিজ্ঞানীদের গবেষণার জন্যই মূলত বাইরের কারও প্রবেশ নিষেধ।

ডালাসে অবস্থিত গুগল ডাটা সেন্টার: ৬০০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মিত ডালাসে অবস্থিত এই গুগল ডাটা সেন্টারটি সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখে। এখানে কারোর প্রবেশাধিকার নেই, এমনকি খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টেরও! গুগলের এই ডাটা সেন্টারের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তাদের নিজেদের প্রশিক্ষিত বাহিনী রয়েছে!

জেরুজালেমের ডোম অব দ্য রক: জেরুজালেমের ডোম অব দ্য রকে যাওয়া যায় না। ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট পবিত্রতম স্থান। কিন্তু এখানকার ডোম অব দ্য মাউন্টে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিশেষ ধর্মীয় নির্দেশিকা রয়েছে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ঘর: লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদ পর্যটকের কাছে আকর্ষণের জায়গা। তবে রানির ঘরে প্রবেশ করার কোনও অনুমতি নেই। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ থাকেন এখানে।

কোকাকোলা রেসিপি ভল্ট: কোকাকোলা পানীয় হিসেবে আমাদের সবার কাছেই পরিচিত। পৃথিবী জুড়ে এই কোলা, এর ক্লান্তি দূর করার ক্ষমতা ও স্বাদের জন্য খুবই সমাদ্রিত। আর স্বাদের পেছনে রয়েছে একটি মহামূল্যবান রেসিপি। আমেরিকার আটলান্টায় কোকা কোলার রেসিপি রাখা রয়েছে একটি ভল্টে। ৬.৬ ফুটের হাই স্টেপ ভল্ট এটি। রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, সশস্ত্র বাহিনী। বিশেষ কি প্যাড ও হ্যান্ড স্ক্যানার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতেই পারবেন না এখানে।

সালবার্দ বীজ ভান্ডার: নরওয়ে এর স্পিটসবার্গেন দ্বীপের তুষার আবৃত একটি পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এই বীজ ভাণ্ডারটি। এখানে পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের গাছের বীজ সংরক্ষিত রয়েছে। এবং প্রতিনিয়তই নতুন বীজ সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। পৃথিবী তে যেকোন সময়ই ঘটে যেতে পারে মহাদুর্যোগ। আর তার সাথে ধংস হতে পারে আমাদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস গাছ। আর সেই ঘটনা কে সামনে রেখেই এই বীজ ভান্ডারটিকে তৈরি করা হয়েছে। এখানে শুধুমাত্র কিছু বিজ্ঞানী ও গবেষকই ঢুকতে পারেন।