বয়স ৩০-এর মধ্যেই জীবনযাপনে যে অভ্যাসগুলো করা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক :: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের যত্নের বিষয়েও বাড়তে থাকে মনোযোগ। তবে এ যত্নের শুরু হওয়া উচিত আরো আগ থেকেই। মানে নারীদের ক্ষেত্রে বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যেই দেখা দেয় নানা রকম শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন। এর কারণ হলো এ বয়সের মধ্যে বেশির ভাগ জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তন আসে, দেখা দেয় স্ট্রেসও। তাই এ সময় থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি মেনে চলা প্রয়োজন। নেয়া প্রয়োজন শরীর ও মনের যত্ন। তাতে যুক্ত হতে পারে নিচের বিষয়গুলো—

পছন্দমতো ব্যায়াম খুঁজে নিন: নিয়মিত ব্যায়াম করলে মন ভালো থাকে, ঘুম ভালো হয় ও ওজন ঠিক থাকে। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও ব্যায়াম করলে তা শরীরের কোনো কাজেই লাগে না। তাই বেছে নিতে হবে এমন ব্যায়াম, যা করে আপনি ভালোবোধ করেন। তা হতে পারে দৌড়, যোগব্যায়াম, সাঁতার বা শরীরের উপযোগী যেকোনো কিছু।

প্রচুর পানি পান: সঠিক ওজন ধরে রাখতে পানি পানের গুরুত্ব অপরিসীম। একেক জনের দেহে পানির প্রয়োজনীয়তা একেক রকম। তবে সাধারণত ধরা হয় একজন ব্যক্তির রোজ ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তাছাড়া শরীর হাইড্রেটেড রাখার জন্য খেতে হবে বিভিন্ন রসাল ফল ও পানিবহুল সবজি।

বেশিক্ষণ বসে থাকা নয়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যে ব্যক্তি বেশি সময় চেয়ারে বসে থাকে, তার স্থূলতা, হূদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে যারা শরীরচর্চা করেন না, তাদের জন্য এ ঝুঁকি আরো বেশি। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ হাঁটুন।

সঠিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ: নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বর্তমনে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এতে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও হরমোন-বিষয়ক নানা সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তবে একান্ত যদি সেবন করতেই হয়, তাহলে ব্যক্তিগত ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তবেই গ্রহণ করা উচিত।

নিজের শরীরকে ভালোবাসুন: নিজের শরীরের সঠিক যত্ন তখনই নেয়া সম্ভব, যখন আপনি নিজের শরীরকে পুরোপুরি ভালোবাসবেন। নিজের শারীরিক গঠন, উচ্চতা, ত্বকের রঙ ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। বয়স অনুপাতে ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করুন, শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিন ও নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন। এতে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকা যাবে।

নিয়মিত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন: গুরুতর অসুখ-বিসুখেও ডাক্তারের কাছে যেতে ইচ্ছে হয় না বেশির ভাগেরই। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। তাই বছরে নিয়মিত চেকআপগুলো করা খুবই প্রয়োজন। শারীরিক স্বাস্থ্য ছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন। কারণ স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটির কারণেও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণ: আপনার খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে কিনা, সেদিকে লক্ষ রাখুন। বর্তমানে মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহণে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সম্পূরকের পরিবর্তে খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলো সেবন করা নিরাপদ। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সম্পূরক নেয়ার প্রয়োজন থাকেই বৈকি। আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজনসাপেক্ষে নিতে হবে।

টিভি দেখার সময় কমিয়ে আনুন: সমস্যাটা ওখানেই যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের টিভি দেখার প্রবণতা বাড়তে থাকে। কারণ বিনোদনের অন্য ক্ষেত্রগুলো ছোট হয়ে আসে। সারা দিনে অফিস শেষে ব্যাডমিন্টন খেলতে বের হওয়ার চেয়ে বাড়ি ফিরে রিমোট নিয়ে টিভির সামনে বসে পড়াই বেশি যুক্তিবহুল মনে হয়। কিন্তু বয়স ৩০ থেকেই টিভি দেখার সময়টা কমিয়ে আনতে হবে ধীরে ধীরে। কারণ এতে করে আপনার অজান্তেই কোমর ও থাইতে চর্বি জমতে শুরু করবে। পাশাপাশি ব্যাকপেইনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।