ভোলায় তিন নারীকে সম্মাননা প্রদান

৭:৩৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৮ বরিশাল

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলায় আন্তর্জাতিক গ্রামীন নারী দিবসে নারী উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার জন্য তিনজন নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজ সোমবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে বে-সরকারি সংগঠন কোষ্ট ট্রাষ্ট এই সম্মাননা প্রদান করেন।

এরা হলেন – নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রাখায় জন্য মনেজা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাহানুর বেগম, নারী উদ্যোগতা জোসনা বেগম, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে অবদান রাখায় লিটু রানীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন – জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের সভাপতি মোবাশ্বের উল্ল্যাহ চৌধুরী, বাল্য বিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এর সভাপতি এ্যাডভোকেট শাহাদাত সাহিন, কোষ্ট ট্রাষ্ট এর ইকোফিস এর প্রকল্প সম্মনয়কারী মোঃ জহিরুল ইসলাম, আইইসিএম প্রকল্পের প্রকল্প সম্মনয়কারী মোঃ মিজানুর রহমান, মনিটরিং অফিসার খোকন চন্দ্রশীল, সহকারী প্রকল্প সম্মনয়কারী দেবাশীষ মজুমদার, নারী নেত্রী বিলকিছ জাহান মুনমুন, ট্যাকনিক্যাল অফিসার সোহেল মাহামুদ, কিশোরী ক্লাব এর লিডার সীমা অক্তার প্রমুখ।

এর আগে আন্তর্জাতিক গ্রামীন নারী দিবস উপলক্ষ্যে প্রেস ক্লাব চত্বরে “পারিবারিক আয়ে নারীর অধিকার ভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত কর” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন – নারীরা পারিবারিক শ্রম ছাড়াও কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, গবাদিপশু পালনসহ নানাধরণের শ্রমে অবৈতনিকভাবে জড়িত। অথচ এসব অদৃশ্য শ্রমের আর্থিক মূল্য না থাকায় তাকে সারাক্ষণ পরিবারে, সমাজে অবমূল্যায়িত হতে হচ্ছে। তাই পারিবাবির আয়ে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার মতামতের বিষয়টি থাকছে উপেক্ষিত এবং অবহেলিত। কাজেই দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নারীদের কাজের মূল্যায়ন এবং কজের আইনগত স্বীকৃতি দেয়ার দাবী জানায়।

এ সময় তারা আরো বলেন, নারীদের শ্রম মূলত গ্রামীন কৃষি-অর্থনীতিতে পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়না, বরং ফসল উৎপাদনে সামগ্রিক ব্যয় হ্রাসের উৎস হিসেবে দেখা হয়। এভাবে ক্রমাগত নারী পারিবারিক আয়ে ভূমিকা রাখার পরও তার কোন মূল্যায়ন হয় না। তাই পারিবারিক আয়ে নারীর অধিকার ভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবী জানান বক্তারা। পাশাপাশি আইনের পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর গৃহশ্রমের পাশাপাশি অবৈতনিক শ্রমকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এই স্বীকৃতি তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।