মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্ছিত!

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে। রোববার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওইদিন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই দম্পতি।

জানা গেছে, আমতলী অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা তার স্ত্রী কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সেলুনা বেগমকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে রোববার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যায়। ওই সময়ে জরুরি বিভাগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিল মিঠুন সরকার।

মিঠুন সরকার প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমের পায়ের কাটা আঙুলের চিকিৎসা না দিয়ে জরুরি বিভাগে বসে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ফেসবুক চালাচ্ছিলেন। প্রায় আধাঘণ্টা ওই দম্পতি জরুরি বিভাগে বসে থাকেন এমন অভিযোগ তাদের।

একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মিঠুন সরকার।

এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায় মিঠুন সরকার ও তার সহযোগী দি একমি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস ওই দম্পতির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মারধর করতে তেড়ে আসে। পরে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় জরুরি বিভাগ থেকে তাড়িয়ে দেয়। লাঞ্ছিত হয়ে ওই দম্পতি জরুরি বিভাগ থেকে এসে বাইরে চিকিৎসা নেন।

এছাড়াও মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তিনি উপজেলার গাজীপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে দায়িত্বপালন করছেন। এতে গাজীপুর এলাকার অর্ধলক্ষ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত বলে জানান এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শী কাঁঠালিয়া দাখিল মাদ্রাসার দফতরি জাহাঙ্গীর জানান, প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে মিঠুন সরকার তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। আমি মিঠুন সরকারের এমন আচরণের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার চিকিৎসা না করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কোনো মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে লাঞ্ছিত করিনি। উল্টো তিনি আমাকে গালমন্দ করেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, আমার কাছে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মিঠুন সরকারকে ডেকে এনে শাসিয়ে দিয়েছি যেন পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে।

অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার স্ত্রী সেলুনা বেগমের পায়ের তিনটি কাটা আঙুলের চিকিৎসার করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। দীর্ঘক্ষণ আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে মোবাইল ফোনে ফেসবুক দেখছিল মিঠুন সরকার। আমি গিয়ে তাকে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ করলেই তিনি ক্ষেপে যান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, আমি এর প্রতিবাদ করলেই তিনি ও তার সহযোগীরা আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন।