আর কি কোলড্রিংস খাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক- কোলড্রিংস এটি খুবই পরিচিত শব্দ বর্তমান সমাজে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা কমবেশি কোলড্রিংস খেয়ে থাকি কিন্তু জানেন কোলড্রিংকস খাওয়ার সাথে সাথে আপনার শরীরে কি কি পরিবর্তন ঘটে আজ আমরা কথা বলবো কোল্ড্রিংসের ক্ষতিকর দিক নিয়ে…

আমরা যখন আমাদের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে অথবা পরিবারের সাথে কোন ভাজাপোড়া অথবা চর্বি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি তখন আমাদের কোলড্রিংস না হলে চলেই না ক, এটি বর্তমান দিনে যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। আমরা কমবেশি সবাই জানি কোলড্রিংস যে ধরনেরই হোক না কেন যত ভালো কোম্পানির ই হোক না কেন এটি আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এত সব কিছু জানার পরেও কোলড্রিংক এর চাহিদা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে । টিভিতে দেখা চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন এবং আশেপাশের মানুষের কোল্ড ড্রিঙ্কস পান করা দেখে বা ভাল কিছুর খাবার পরে একটি মানুষেরও ইচ্ছা হয় কোলড্রিংস পান করার। বিশেষ করে গরমের দিনে মানুষ কষ্টের হাত থেকে একটু রেহাই পাওয়ার জন্য কোলড্রিংস পান করে থাকে। কিন্তু জানেন কোলড্রিংক এর মধ্যে সাধারণত কি কি উপকরণ থাকে

কার্বনেট ওয়াটার, চিনি ,ক্ষতিকারক অ্যাসিড এবং কৃত্রিম রং। এই সমস্ত উপাদান আমাদের শরীরের বিভিন্ন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কোলড্রিংস গুলো আমাদের শরীরকে ঠান্ডা করার পরিবর্তে পেটে অ্যাসিড উৎপন্ন করে এবং সুগার লেভেল অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়াতে সাহায্য করে। কোলড্রিংস পান করার পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের মধ্যেই এটির কুপ্রভাব, আমাদের বডিতে বিস্তার করা শুরু করেন।

আপনি কি জানেন একটি ৩০০ মিলি কোলড্রিংসের বোতলে ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম চিনি থাকে। অর্থাৎ যখন আমরা যখন একটি ৩০০ মিলি বোতলের কোলড্রিংস পান করি তখন আমাদের বডির মধ্যে সাত থেকে আট চামচ চিনি প্রবেশ করে। যা আমাদের শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে সাধারণত আমরা এতো পরিমাণের চিনি একসাথে খেলে আমাদের বমি বমি ভাব অথবা পেট ভরে যাওয়ার মত অনুভুতি হয় কিন্তু কোলড্রিংকস খেলে এরকম হয় না কেন?

কারণ একটাই কোল্ড্রিংসের ফসফরিক অ্যাসিড থাকে যা চিনির মিষ্টিত্ কে কমাতে সাহায্য করে। কোলড্রিংস খাওয়ার ২০ মিনিট পর আমাদের শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়তে থাকে । যেটা কে নিয়ন্ত্রন করার জন্য আমাদের শরীরে ইনসুলিন এর প্রভাব বেড়ে যায় । একসাথে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকায় আমাদের লিভার ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না । আর সুগারের মাত্রা অধিক হওয়ার কারণে আমাদের শরীর ওই সুগার কে ফ্যাটে পরিণত করে। চা, সিগারেট, কফিতে যে পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে তা একটি কোলড্রিংকের মধ্যেও সমপরিমাণ ক্যাফেইন বিদ্যমান।

ক্যাফেইনের কারণে আমাদের চোখের ক্ষতি হয়। চা এবং কফির মত যদি আমরা কোলড্রিংস পান করি তাহলে আমাদের ঘুম অলসতা কেটে যায় এবং নিজেকে খুব সক্রিয় ও সতেজ মনে হয়। কিন্তু একই সাথে এই সময় আমাদের অজান্তে ব্লাড প্রেসারও বেড়ে যায়। এবং এই ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল করার জন্য আমাদের লিভার রক্তে আরো সুগার ছাড়তে থাকে এর ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোল্ড ড্রিংকস পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের ব্রেইন থেকে ডোপামিন নামে একটি হরমোন নির্গত হয়। যার দ্বারা আমরা খুশি বা আনন্দ অনুভব করি এবং এর কারণে আমরা কোলড্রিংস বারবার খেতে মনে ইচ্ছা জাগে বলতে পারেন এক ধরণের আসক্তি। এক সময় দেখা যাচ্ছে কোলড্রিংক পান করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আমরা কোল্ড ড্রিংকস পান করে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এবং দেহে পানি স্বল্পতা দূর করানোর জন্য কিন্তু এই কোলড্রিংক এর কারণেই মূলত আমাদের দেহে পানি স্বল্পতা দেখা যায়।

কারণ এই কোলড্রিংক আমাদের দেহ থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিংক এই সমস্ত মূল্যবান খনিজ পদার্থ গুলোকে আমাদের ক্ষুদ্রান্তে পাঠাতে শুরু করে ফলে আমাদের বারবার ইউরিনের চাপ দেয়। এই কোল্ডড্রিঙ্কে থাকা ফসফরিক এসিডের কারণে আমাদের দেহের ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিংক এর মতো খনিজ পদার্থ কমতে থাকে।

ফলে আমাদের হাড় এবং মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। কোলড্রিংক এর কারণে আমাদের শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যায় । ফলে আমাদের শরীরকে ডি-হাইড্রেট করে দেয়। কোল্ডড্রিঙ্ক অথবা সফটড্রিঙ্ক তৈরি করার সময় কোন প্রাকৃতিক ফল ব্যবহার করা হয় না। কোলড্রিংক এর মধ্যে এমন কিছু নেই যেটা আমাদের শরীরের পক্ষে ভালো। কোলড্রিংক পান করার কারণে ডায়াবেটিস, আলসার্র, গ্যাস্ট্রিকের এবং হার্ট এটাক এর মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।

স্যার গঙ্গারাম হসপিটাল নয়াদিল্লির কনসালটেন্ট , ফিজিশিয়ান ডক্টর আতুল গোগিয়া এ ব্যাপারে বলেন, “কোল্ড ড্রিংকস পান করার ফলে আপনার ওজন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মেটাবলিক সিনড্রোম হাই ব্লাড প্রেসার, হাই সুগার, হাই কোলেস্টেরল এইসব সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”

আমরা আমাদের পছন্দের জিনিস একটু বেশি খেতে পছন্দ করি কিন্তু সব সুস্বাদু খাবার স্বাস্থ্যকর হয় না। এই জন্য আমাদের খাদ্য তালিকা থেকে চা-কফি, কোলড্রিংস এগুলো যতটা কম পান করা সম্ভব ততটাই ভালো । চেষ্টা করুন শরবত, দুধ এবং ফলের রস পান করার। আশা করছি এত কিছু জানার পরে আপনি অতিরিক্ত কোল্ডড্রিঙ্ক পান থেকে বিরত থাকবেন। ম্যাঙ্গোটিভির পক্ষ থেকে আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।