পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা চেষ্টা, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খলিল

৫:৪২ অপরাহ্ণ | সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ চট্টগ্রাম

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি- মো. ইব্রাহীম খলিল। ১৬ বছরের উঠতি টগবগে তরুণ। পেশায় একজন ট্রাক চালক। মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ সিমেন্ট কারখানায় চাকুরী করতেন। বছর পচিঁশের যুবক কেফায়েত হোসেনও চাকুরী করেন ওই প্রতিষ্ঠানে। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় দু’জনের মাঝে সখ্যতাও বেশ।

পূর্বেকার কোন শত্রুতার জেরে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ইব্রাহীমের উপর ক্ষেপে যায় কেফায়েত। ক্ষিপ্ত কেফায়েত ইব্রাহীমকে মারধর করে ও হাওয়ার মেশিন থেকে পাইপ দিয়ে পায়ূপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ইব্রাহীম অজ্ঞান হয়ে গেলে পালিয়ে যায় কেফায়েত। পরে কারখানার লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সহকর্মী কেফায়েতের দূরভিস্বন্ধির এমন বর্বরতায় দুঃসহ যন্ত্রনায় কাতরাতে হচ্ছে এই তরুণকে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২২০ নাম্বার ওয়ার্ডের ১৬ নং শয্যায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ইব্রাহিম।

গত ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার দিকের ঘটনা এটি। নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানা এলাকার মেঘনা ব্রীজ এলাকায় মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ সিমেন্ট কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

বর্বরতার শিকার ইব্রাহীম খলিল কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার উরুকচাউল গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযুক্ত কেফায়েতও একই গ্রামের খুরশিদ আলমের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কেফায়েত পলাতক রয়েছে।

ইব্রাহীমের ভগ্নিপতি মোবাশে^র হোসেন জানায়, ২ ভাই ২ বোনের সংসারে ইব্রাহীম ভাইদের মধ্যে বড়। অভাবের সংসারের হাল ধরতেই ড্রাইভিং পেশায় যোগ দেয় ইব্রাহীম। প্রায় ২ বছর ধরে ফ্রেশ সিমেন্ট কারখানায় চালকের চাকুরী করে ভালোই চলছিল সংসার। গত ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টার ইব্রাহীম ও কেফায়েতের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর একপর্যায়ে কেফায়েত তাকে (ইব্রাহীম) ধরে এনে হাওয়ার মেশিন থেকে পাইপ দিয়ে পায়ূপথে বাতাস ঢুকিয়ে মেরে ফেলার চেষ্ঠা করে।

এসময় ইব্রাহীম অজ্ঞান হয়ে গেলে কেফায়েত পালিয়ে যায়। পরে কারখানার লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পেটের ভিতরে অন্ত্রনালী ছিদ্র হয়ে গেছে ও মলদ্বার ফেটে গেছে এবং খাদ্যনালীতে যথেষ্ট পরিমান ক্ষতি হয়েছে। একটি অপারেশান সম্পন্ন করা হয়েছে। আরেকটি অপারেশান কিছুদিনের মধ্যে করতে হবে। তার চিকিৎসা ব্যয় করতে গিয়ে ছন্নছাড়া হয়ে গেছে ইব্রাহীমের পরিবার। তিনি আরো বলেন, এরআগে কেফায়েত কেফায়েত ইব্রাহীমকে মেরে ফেলার হুমকি দমকি দিয়েছিল।

ইব্রাহীমের মা আনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, এ ঘটনার প্রায় মাস খানেক আগে কেফায়েত আমাদের বাড়ীতে এসে ইব্রাহীমকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাকে বলেছিল আপনার ছেলেকে ভালো হয়ে যেতে বলেন না হয় তাকে মেরে ফেলবো। কি করেছে ইব্রাহিম জানতে চাইলে সে কোন কথা না বলেই আমাদের বাড়ী থেকে চলে যায়। আমি কল্পনাও করিনি সে আমার ছেলেকে সত্যিই মেরে ফেলার চেষ্ঠা করবে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কেফায়েত হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পিতা খুরশিদ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুষ্টামি করতে গিয়ে এমনটা হয়েছে। কেফায়েত এখন কোথায় আছে আমি জানি না। এছাড়া আমি এখন ঢাকা মেডিকেলে ইব্রাহীমের কাছে আছি। তার চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছি। আমার ছেলে অপরাধ করেছে ঠিক। তবে আমি আমার ছেলের বিচার করবো।

ফ্রেশ সিমেন্ট কারখানার ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার বেলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইব্রাহিমকে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত কেফায়েত হোসেন কোথায় আছে জানিনা। ভাই আমি খুব ব্যস্ত আছি বলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর বারবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কোন পক্ষই এখনো থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।