৪১ বছর বয়সে জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করলেন তিনি

১২:০৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, নভেম্বর ৩, ২০১৮ সাফল্যের বাংলাদেশ

বরিশাল প্রতিনিধি: ‘লেখা পড়ার বয়স নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই’ শিক্ষা গ্রহণের এই শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে ৪১ বছর বয়সে অষ্টম শ্রেণির (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উদাহরন সৃষ্টি করলেন আগৈলঝাড়ার হরষিত বাড়ৈ। অভাব-অনটনের কারণে শৈশবে স্কুলে যেতে পারেননি তিনি। ছোটবেলায় তার বাবা মারা যান। খেত-খামারে কাজ করে সংসারের হাল ধরতে হয়। অভাব-অনটনের কারণে প্রবল ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখলেও পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার।

৮ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজিহার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ বৃহস্পতিবারের শ্রীমতি মাতৃ মঙ্গল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিক্ষায় অংশ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাসের নজর কারেন পরিক্ষার্থী হরষিত।

পরীক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ জানান, চাকুরীর জন্য অন্তত একটি সার্টিফিকেট দরকার। তাছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি জীবনে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে বয়সে স্কুলে যাবার কথা ছিল, সে বয়সে পরিবারের হাল ধরতে হওয়ায় লেখাপড়া শিখতে পারেননি তিনি। যখন বুঝতে পেরেছেন যে, চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকুরীর আবেদন করতেও অন্তত অষ্টম শ্রেণির একটি সনদপত্র দরকার হয়। এই শিক্ষা থেকে তিনি স্কুলে ভর্তি হয়ে নিয়মিত পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বয়স হলেও পড়া লেখা কোন হাস্যকর ব্যাপার নয়; এই মূল মন্ত্র ধারণ করে তিনি রাজিহার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে কম্পিউটার এ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে ভর্তি হয়ে চলমান জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রবেশত্র জানুয়ায়ি তার জন্ম তারিখ ১জানুয়ারি ১৯৭৭।

ইউএনও বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, লেখাপড়ার কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সে লেখাপড়া করা যায়। তার অনন্য উদাহরণ হরষিত। জ্ঞান অর্জনের জন্য বয়সের চেয়ে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে হরষিত লেখাপড়া করায় বর্তমান সমাজে দেশের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তার থেকে অনেকেরই শিক্ষা নেয়া উচিত।