আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ; ২ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন চান প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কন্ঠস্বর :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার মোহাম্মদপুর ও আদাবরে সংঘর্ষের মধ্যে গাড়িচাপায় দুই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের জন্য দুই দিন সময় দিয়েছেন। এছাড়া জড়িতদের বিপক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আদাবরে যা ঘটেছে তা একেবারেই অনাকঙ্ক্ষিত। আমরা কখনোই এমন কিছু আশা করিনি।এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নির্দেশনা জানিয়ে দিতে।

কাদের আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার তদন্তের জন্য দুই দিন সময় দিয়েছেন। একটি চমৎকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেন অনাকাঙ্ক্ষিত মমার্ন্তিক ঘটনা ঘটলো। এ ব্যাপারে যারাই দায়ী হোক তাদের বিররুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে, মোহাম্মদিয়া হোমস এলাকার এই রাস্তায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। হামলা থেকে বাঁচতে গিয়ে পিকআপ ভ্যানের চাপায় দুই কিশোর আরিফ ও সুজন গুরুতর আহত হয়। সুজনকে ঢাকা মেডিকেল এবং আরিফকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনোনয়নপত্র কেনার জন্য আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ছাদেক খানের কর্মী-সমর্থকরা মোহাম্মদপুরের কয়েকটি স্থানে পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে জড়ো হতে থাকেন। ওই সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ওই আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের পক্ষের কর্মীরা তাদের ধাওয়া করে।

সংঘর্ষ ও ধাওয়ায় আহত হন ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী। তারা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের অভিযোগ, যারা হামলা করেছে তারাও সবাই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী।

নিহত আরিফের ভাইয়ের অভিযোগ, মামলা না করতে প্রতিপক্ষ তার বাবাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়েছে।

এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি দেখছেন। পুলিশ বলছে দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা বের করার চেষ্টা করেছেন তারা।