প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি নয়নাভিরাম তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

৫:২৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮ সুখবর প্রতিদিন

শা্হ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ দূরের স্বর্গকে নজরবন্দি করতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া। দর্শন করুন প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি নয়নাভিরাম কাঞ্চনজঙ্ঘা।

সাধারণতঃ অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত আকাশে যখন মেঘ থাকেনা, আবার কুয়াশা পড়া শুরু’তে শুধুমাত্র তখনই তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায় বরফে ঢাকা ধবল পাহাড়ের চূড়া দার্জিলিং-এর কাঞ্চনজঙ্ঘা।

তেঁতুলিয়া থেকে এত ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়না। সকাল ৮টা থেকে সূর্যকিরণ যখন তেজ হতে থাকে তখন স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকাল দশটা পর্যন্ত বেশ ভাল দেখা যায়। তারপর আস্তে আস্তে ঝাপসা হতে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফ পাহাড়ে তখন অপূর্ব মহিমায় অন্যরূপে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। পর্যটকদের অবাক করতে থাকে তার দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে। এ দৃশ্য বর্ণনা করার মতো নয়। দেখতে দেখতে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে সংশয় হয়।

ডাকবাংলোর বারান্দায় দাঁড়ালে আপনার চোখে পড়বে ভারত-বাংলাদেশের অবারিত সৌন্দর্য। ওই স্থান থেকে হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বর্ষাকালে মহানন্দা নদীতে পানি থাকলে এর দৃশ্য আরো বেশি মনোরম হয়। কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে সারাবিশ্ব থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভারতের টাইগার হিলে ছুটে যান। ভোরে উষার সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর রোদ পড়ে সেই রোদ যেন ঠিকরে পড়ে পর্যটকের চোখে।

দার্জিলিং-এর টাইগার হিলই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। কিন্তু যদি পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই সেই দৃশ্য দেখতে পারেন তবে কেমন হয়? হ্যাঁ এমন সুযোগই রয়েছে। মহানন্দার তীরে নিরিবিলি ডাকবাংলোতে বসে দেখবেন নদী থেকে পাথর কুড়ানো আর অপর পাড়ে ভারতীয় জনপদে মানুষজনের আনাগোনা।

যদি অঝোরে বৃষ্টি নামে তবে নির্জন ডাকবাংলোর বারান্দায় এক কাপ ধূমায়িত চা হাতে নিয়ে চুপচাপ শুনবেন বৃষ্টির গান। আর যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে তাহলে তো কথাই নেই-বাংলাদেশে বসেই দেখা যাবে হিমালয়ের অন্যতম বড় পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য! হ্যাঁ, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ভারতের দার্জিলিং যাওয়ার দরকার নেই।

এই বাংলাদেশ থেকেই এমন দৃশ্য দেখা সম্ভব। দার্জিলিং চায়ের স্বাদও নিতে পারেন তেঁতুলিয়ায় বসেই। সিলেটের পর দেশের সবচেয়ে বেশি চায়ের আবাদ যে এখানেই হয়! এখানকার চা বাগানিদের দাবি, তেঁতুলিয়ার চায়ের মান পৃথিবী বিখ্যাত দার্জিলিং চায়ের কাছাকাছি।

তেঁতুলিয়া পাড়ে নির্মিত হয়েছে ‘তেঁতুলিয়া রিভার ভিউ’। বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ভোলায় আসলে বাবা-মা এর কবর জিয়ারত করে অবসর সময় কাটানোর জন্য যান এখানে। ভোলায় যখন কেউ বাণিজ্যমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে আসলে তাকে নিয়েও তোফায়েল আহমেদ যান এখানে।

নদীবাধের কাজে ব্যবহৃত ব্লকে কাজে লাগিয়ে বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে এ ‘তেঁতুলিয়া রিভার ভিউ পার্কটি।’ সারিবদ্ধভাবে ব্লকের উপর আবার ব্লক বসিয়ে ৩টি করে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে তা সাদা, লাল ও হলুদ রঙে রাঙিয়ে সাজানো হয়েছে বাহারি রূপে। তার উপর রোদে পরিবার সহ বসা ও বসে কথা বলার জন্য রয়েছে কংক্রিটের ছাতা ও টেবিল