মানিকগঞ্জে সরাসরি ভোটের মাঠে লড়তে মনোনয়ন কিনলেন পাঁচ নারী

দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: ভোটের মাঠে লড়তে মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন পাঁচ নারী। তাদের মধ্যে দুটি আসনে লড়তে মনোনয়ন কিনেছে এক নারী।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগে রয়েছেন একজন এমপিসহ দুইজন। অপরদিকে বিএনপির রয়েছে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতিসহ আরও দুইজন।

নির্বাচনি আসন ১৬৮ মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-শিবালয়-দৌলতপুর) যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০৪ জন। এই আসনটি মোট ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৩ জন। বাকী ভোটার পুরুষ। অর্থাৎ এই আসনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার বেশি।

এই আসনে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন কিনেছেন বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুন্নু গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। এছাড়াও এই আসনে বিএনপির আরেক নারী প্রার্থী হলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুব হোসেন মহব্বতের স্ত্রী খোন্দকার আতিকা রহমান। আতিকা রহমান অবশ্য ছাত্রজীবনে ইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তিতে ঢাকা মহানগর মহিলা দলের দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের সৈনিক হিসেবে আতিকা রহমানের দলের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা বিএনপির মনোনয়ন কিনেছেন ১৭০ মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসন থেকে।

উল্লেখ্য জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতার বাবা প্রয়াত হারুনার রশিদ মুন্নু বিএনপির টিকিটে নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ ও আসনে পাঁচ দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দফতর বিহীন মন্ত্রীও হন।

এদিকে নির্বাচনি আসন ১৬৯ এ মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-সদরের একাংশ ও হরিরামপুর) আসনের বর্তমান এমপি কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ বেগম এবারও মনোনয়ন পত্র কিনেছেন মনোনয়নের আশায়। নির্বাচন অফিসের তথ্য মোতাবেক এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৬ হাজার ১৬২ জন।

এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি। এ আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩ হাজার ৯৮১ জন। নবম জাতীয় সংসদে অবশ্য সংরক্ষিত নারী কোটায় সংসদ সদস্য ছিলেন মমতাজ বেগম। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত হন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আছেন।

অপরদিকে ১৭০ মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়ার) নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ২৯৩ জন। যার মধ্যে নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯৫ জন। এই আসনেও পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ৩ হাজার ২৯৭ জন বেশি। এই আসনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগে থেকে হচ্ছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নারী নেত্রী লক্ষ্মী চ্যাটার্জি। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ছাত্রী জীবনে মানিকগঞ্জ মহিলা কলেজের ছাত্রী সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগের আন্দোলন সংগ্রামে সব সময়ই তিনি সামনের সারিতে থেকে অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন। ভালো বক্তা হিসেবেও সর্বমহলে তার পরিচিতি রয়েছে।

এই আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন ছাত্রদলে এক সময়ের তুখোর ছাত্রী নেত্রী রোকসানা খানম মিতু। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অন্যতম নেত্রী ছিলেন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অতঃপ্রতভাবে জড়িত। তিনি সব সময় রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সাড়িতে ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।