সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাঠে মাঠে কৃষকের স্বপ্ন

১০:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮ সুখবর প্রতিদিন

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলে বিস্তীর্ণ সবুজ ঘেরা মাঠে-মাঠে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠ জুরে এখন শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজির সমারহ। সবজি চাষে বদলে গেছে মাঠের দৃশ্যপট।

চিরচেনা সবুজ দৃশ্য যে কোন মানুষের নজর কাড়ছে। কৃষকের পদধূলিতে ছোট চাঁরা বেড়ে উঠেছে। ধরছে ফসল।

কৃষকের হাসির ঝিলিক প্রস্ফুটিত হচ্ছে মরিচের ডগায়। ধনে পাতার শুভাস ছরিড়ে পড়ছে বাতাসে বাতাসে।

নীরবেই আলুর শরীর মোটা তাজা হচ্ছে মাটির নিচে। ইট পাথরের শহর থেকে বেরুলেই দৃস্টিতে পড়ে কৃষকের স্বপ্ন বোনা ফসলের মাঠ।

প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের আদর যন্তে গড়েতোলা সবজি তে দেখে। সকালে হালকা কুয়াশা ভেত করে আকাশের সূর্য উঠার আগেই কৃষরা হৃদয়ের টানে ছুটে আসেন জমিতে।

শরীরের সব টুকু শক্তি আর মনের গভির পোষা ভালবাসার সিক্ত করে তুলেন কপি, টমেটো, কিংবা লাউ, সিমের গোড়া থেকে ডোগা পর্যন্ত। ক্ষেতে পানি দেওয়া আগাছা পরিস্কার কিটনাশক প্রয়োগ নিরানী সহ সবজি তে পরির্চযায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষরা।

আবহাওয়া অনুকূল ও আধুনিক পদ্ধিতিতে শীত কালিন সবজির চাষাবাদ করায় ভাগ্যর পরিবর্তন গড়ে উঠেছে অনেক কৃষকের। েেতর সবজির পাশাপাশি অনেকেই বাড়ীর আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন সবজি পল্লী।

এ বছর রোগ বালাই কম হওয়ায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় হাজার হাজার কৃষক নতুন স্বপ্নে বিভোর। তারা েেতই সবজি বিক্রি করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই সব সবজি।

টাঙ্গাইল জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে, টাঙ্গাইল জেলায় নয় হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজির চাষাবাদের ল্যমাত্রা।

টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় কৃষকের েেত বিভিন্ন ধরনের সবজি।

এ সবের মধ্যে রয়েছে, লাউ, সিম, বরবটি, চালকুমড়া, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঝিংগা, পালংশাক, লাল শাক, কমলি শাক, পুইশাক, ঢাটা শাক, করলা, ধনিয়া পাতা, ঢ্যরস, পাটশাক, পলট, খিরা, চিচিংগা, সরিসা শাক, ওল, গাজর, মটরশুটি, মুলাশাক, ফুল কপি, বাধাকপি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাঁচ বিক্রম হাটি সবজি চাষি হাসান আহম্মেদ সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, শীত কালীন সবজি চাষে খরচ কম লাগে।

এতে, সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এ বছর ২ বিগা জমিতে বগুন ও লাউ ১ বিঘায় বাধাকপি এবং ফুলকপি, দশকাঠা জমিতে ধনেপাতা চাষ করেছি।

এ দিকে ঠান্ডু মাতাম্বর জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তাই অন্য ফসল ছেড়ে সবজির চাষ করছি।

এ বছর এক ভিগা জমিতে ভিবিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এতে খরচ হয়েছে চার হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বাজারে বিক্রি ভালো হয়েছে।

তবে, উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি না আসলে আমরা আরো ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।

সদর উপজেলার করটিয়ার সবজি চাষি নজরুল জানায় বাজারে সবজির দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে সার, কীটনাশক, বীজ ও পরিবহন খরচ বেশি।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, এ বছর শীতকালিন সবজি নয় হাজার হেক্টর ল্য ছিল। উৎপাদন হয়েছে আট হাজার হেক্টর। এখনো পর্যন্ত অনেকে চারা রোপন করছে।

আশা করা যায় ল্য মাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে। শীতকালিন সবজি চাষে কৃষকদের পারামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিভাগ আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার ফল পাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক এমনই দাবি এই কর্মকর্তার।