রাজনীতিতে আসার এটাই একটা সুযোগ ছিল: মাশরাফি

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রথমবারের মত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

খেলার মধ্যে যাতে রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকে সেজন্য মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। আধঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটা জুড়েই থাকল রাজনীতি

৬ই ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে মাঠের ক্রিকেটে ফিরবেন মাশরাফি। কিন্তু তিনি চাননা – তখন তার রাজনীতি নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠুক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল- ২ (লোহাগড়া-নড়াইল সদরের একাংশ) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে লড়াই করবেন মাশরাফি।

সুতরাং চাইলেও কি তিনি রাজনীতি বিষয়ে প্রশ্ন এড়াতে পারেন? সংবাদ সম্মেলনে শুরু থেকেই প্রশ্নের প্রধান উপকরণই ছিল তার রাজনীতিতে আসা।

“আমার ক্রিকেট আর সর্বোচ্চ ৬-৭ মাস, কিন্তু রাজনীতিতে আসার এটাই একটা সুযোগ ছিল৷ প্রধানমন্ত্রীও আমাকে সেই সুযোগটা দিয়েছে, এজন্যই আমার এই সময়ে রাজনীতিতে আসা,” বলছিলেন মাশরাফি।

অবসর নেয়ার সম্ভাব্য সময় কখন এমন প্রশ্ন করলে মাশরাফি বলেন, “২০১১ সাল থেকেই আমার ক্যারিয়ার অনিশ্চিত ছিল৷ কেউ বলতে পারতো না আমার ক্যারিয়ার আরো সাত-আট বছর চলবে সেখান থেকে আমি আজও ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছি।”

মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসর নিয়ে সবসময় একটি ধোঁয়াশা ছিল। সেসম্পর্কে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের পর কী হবে সেটা আমি জানি না। এর আগে কথা ছিলো ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত খেলবো, এখনও ফিট আছি বিশ্বকাপ খেলবো – বাকিটা সময় উত্তর দিবে।”

তর্ক-বিতর্কের জবাব
নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের বিরূপ মন্তব্যও শুনতে হয়েছে মাশরাফিকে।

এবিষয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, “আমি এটা বিশ্বাস করি সবার রাজনৈতিক মত ও আদর্শ খোলামেলা বলাই ভালো।”

“যারা মন্তব্য করছে ওদের থামানো আমার কাজ না। আমি ওদের সম্পূর্ণ সমর্থন করি; কারণ ওরা ওদের বক্তব্য উপস্থাপন করছে।”

এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মাশরাফির বক্তব্য ছিলো না এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, “এখানে আমি একদম নতুন, আশা করি পুরাদস্তুর রাজনীতিবিদ এখনো হয়ে উঠিনি।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি হতে যাচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজার ঘরের মাটিতে শেষ সিরিজ। মাশরাফি বলেন, অন্য যে কোনো সিরিজের মতোই এই সিরিজে চোখ থাকবে জয়ের দিকে।

নির্বাচনে অংশগ্রহন খেলায় প্রভাব ফেলবে কি?
এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, আমি মনে করি না এমন কিছু হবে।

“আপাতত ১৪ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি ক্রিকেট নিয়েই ভাবছি। আমার মাইন্ড সেট আপ ক্রিকেট, অন্তত বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তারপর আমার চিন্তা করার সুযোগ আছে।”

মাশরাফি যোগ করেন, “না আমি শচীন টেন্ডুলকার, না আমি গ্লেন ম্যাকগ্রা – যে আমার কথা মানুষ স্মরণ রাখবে, আমি আমার মতো করেই ক্রিকেট খেলেছি।”

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, সে সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।”

অনেক রাজনীতিবিদ আছেন যারা তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গতানুগতিক রাজনীতিতে গা ভাসান, মাশরাফি কী ব্যতিক্রম কিছু করবেন?

“আমি এখানে স্বপ্ন দেখাতে আসিনি – গতানুগতিক কোনো কথাও বলতে চাইনা, এমন কিছু বলতে চাইনা যেটা আপনি কাল মেলাতে পারবেন না।” বিবিবি বাংলা