বাকৃবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা!

হাবিবুর রনি,বাকৃবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্ট রুমে বুধবার রাত ১১ টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধর করে ওই হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা।

আহত সাংবাদিককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুরো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ধরনের ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে হলে গেস্টরুম চলাকালীন সময়ে ২য় বর্ষের এক ছাত্রলীগ কর্মী প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পর মারে। এতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গেস্টরুমে যেতে আপত্তি জানায়। এসময় হলের নিচতলার ব্লকে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে হলের ২য় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীদের কথা কাটাকাটি এবং হট্টোগোলের সৃষ্টি হয়।

পরে ওই হলের হল শাখার ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপর সিনিয়র নেতারা চলে গেলে আবারও ওই দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় হলের ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে মারধর করে।

ঐ মুহূর্তে কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল বাশার মিরাজ সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যান। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীরা তাকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী মিলে তাকে মারধর করে। এসময় ওই হলের ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা আবুল বাশারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার পরপরই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার মনির ঐ সাংবাদিককে খবর সংগ্রহ করার জন্য শাসিয়ে বলেন, ‘তুমি এখানে কেনো এসছো? হলের খবর কেনো তুমি বাইরে দিবে? হলের নিউজ করতে হলে হলের সিনিয়র নেতাদের অনুমতি নিতে হবে।’ পরে এ বিষয়ে শাহরিয়ার মনিরকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা আহত আবুল বাশারকে রাত ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফ আহমেদ হাসপাতালে আবুল বাশারকে দেখতে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার রাতে বারবার হল প্রভোস্টকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেন নি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শংকর কুমার দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকনকে জানানো হলেও তিনি পরবর্তীতে কোনো ধরনের খোঁজখবর নেননি। পরে প্রক্টরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি হলের বিষয়, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। যেহেতু আমাকে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি তাই আমি কোনো ব্যবস্থা নেই নি। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতাম।

এ বিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ন্যাক্কার জনক ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসন আছেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্যই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কোনো দায়ভার নেই। এছাড়াও ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।