প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য শেখ হাসিনার!

সময়ের কণ্ঠস্বর ::  জাপানের সংবাদপত্র নিকি এশিয়ান রিভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক গতি অব্যাহত রেখে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন তিনি।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ; তা এখন বেড়ে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম অংশীদার জাপানের সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্জন হবে। “যদি পুনর্নির্বাচিত হই, আমি আপনাদের বলতে চাই যে আমরা যে সব কর্মসূচি নেব, তাতে ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।”

শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে। অর্থনীতির গতি বাড়ানোর চেষ্টার উদাহরণ হিসেবে সারা বাংলাদেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা জাপানি সংবাদপত্রটির কাছে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা, যেখানে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে আগামী বছর দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পাবনার রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, সেখানে দুটি ইউনিটে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১৭ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট, যার অর্ধেকের বেশি আসে তেল ও গ্যাস থেকে। গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে অন্য উৎসের দিকে নজর এখন বাংলাদেশের।

প্রভাবশালী সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যাদের প্রস্তাব দেশের জন্য ভালো হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে।

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার দেশের মানুষ আমার উপর ভরসা রেখেছে। যখন আমি তাদের (রোহিঙ্গা) দুর্দশার কথা তুলে ধরে আমার দেশের মানুষকে বলেছি যে প্রয়োজন হলে আমরা খাবার ভাগাভাগি করে খাব, দেশবাসী তা মেনে নিয়েছে।” রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা খুব সুন্দর একটার দ্বীপ। সেখানে তারা সুন্দর জীবন পাবে, শিশুগুলো পাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা।” ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সেখানে ১০ লাখ মানুষ এঁটে যাবে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাউকে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এই সঙ্কটের স্থায়ী অবসানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়য়ের মনোযোগও আকর্ষণ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

 

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views