তালিবানের ভয়ে ঘরছাড়া ‘আফগান মেসি’

স্পোর্টস্ আপডেট ডেস্ক :: মুর্তজা আহমেদিকে মনে আছে? লিওনেল মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা জানাতে পলিথিনে বানানো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়িয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল যে আফগান শিশুটি!

মেসিও জানতে পেরেছিলেন মুর্তজার সেই ভালোবাসার কথা। ২০১৬ সালে কাতারে ডেকে নিয়েছিলেন পাঁচ বছর বয়সী ভক্তকে। হাতে তুলে দিয়েছিলেন অটোগ্রাফ সম্বলিত জার্সি। এরপর থেকে আফগানিস্তান, এমনকি পুরো বিশ্বেই ‘আফগান মেসি’ নামে খ্যাতি পায় মুর্তজা আহমেদি। সেই খ্যাতিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে।

দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় প্রবলভাবে জেঁকে বসেছে যুদ্ধ। সুযোগে আফগানিস্তানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে উগ্র তালেবান শক্তি। বিশেষত গজনী প্রদেশে তাদের শক্তি প্রবলভাবে বাড়াচ্ছে তালেবানরা। ওই প্রদেশেই বাস করতো মুর্তজা ও তার পরিবার।

তালেবানদের দাপট ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শতশত পরিবারের সঙ্গে গত মাসে ঘর ছাড়ে মুর্তজার পরিবারও। বিশেষ করে দেশ-বিদেশে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ায় তালেবানদের চক্ষুশূল হয়ে পড়ে বর্তমানে সাত বছর বয়সী শিশুটি। ছেলেকে বাঁচাতে তাই ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মুর্তাজার বাবা-মা।

মুর্তজার পরিবারের ঠাই হয়েছে এখন রাজধানী কাবুলের এক বস্তিতে। সেখানে কেমন আছে মুর্তজা? কীভাবে কাটছে তাদের দিন? সেটি জানতে তাদের সঙ্গে দেখা করে সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিনিধি। সেখানেই নিজেদের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানান মুর্তজার মা শফিকা।

২০১৬ সালের পর আফগানদের নায়কে পরিণত হয় মুর্তজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয় সে। সেইসঙ্গে তালেবানদের হুমকির পরিমাণও বাড়তে থাকে বলে আতঙ্কের কথা বর্ণনা করেন শফিকা, ‘তালেবানরা বলেছে ওরা ওকে তুলে নিয়ে যাবে। তারপর কেটে টুকরো টুকরো করবে।’

ছেলেকে যেন কেউ চিনতে না পারে সেজন্য নিজে ও মুর্তজাকে লুকিয়ে রাখেন বলে জানিয়েছেন শফিকা। বাহিরে বের হলেও মুখে স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখেন যাতে কেউ চিনতে না পারে।

বিপত্তির কারণে মেসির অটোগ্রাফ সম্বলিত জার্সি আর ফুটবলটিও সঙ্গে আনতে পারেনি মুর্তজা। প্রতিদিনই ঘরের উঠোনে বলছাড়া অনুশীলন করে সে। ইচ্ছা আবারও দেখা হবে মেসির সঙ্গে, ‘আমি মেসিকে খুব মিস করি। আমি চাই জার্সি আর বলটা যেন ফেরত পাই। তাহলে আমি খেলতে পারবো।’

দুই বছর আগে কাতারে প্রিয় মেসির সঙ্গে দেখা হওয়ার স্মৃতিটা আজও যত্নের লালন করে রেখেছে মর্তুজা, ‘যখন তার সঙ্গে দেখা হয় আমি তাকে সালাম দেই। তারপর কেমন আছেন বলে জিজ্ঞেস করি। জবাবে তিনি আমাকে ধন্যবাদ দেন। আর বলেন আমি যেন নিরাপদে থাকি। আমি তার সঙ্গে মাঠ পর্যন্ত যাই। সেখানে আমি তাকে খেলতে দেখেছি।’

sharing-is-caring!
Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
You May Also Like:
  • Recent Updates
  • Top Views News