নির্বাচন কমিশনারদের ভূমিকা ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের পক্ষে অভিযোগ রিজভীর

সময়ের কণ্ঠস্বর :: শুক্রবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী  বলেছেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তির কাজটি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ‘সরকারের নির্দেশনা’ অনুযায়ী করছে।

রিজভী বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু তাদের ভূমিকা ‘ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের’ পক্ষে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “সবাই বলছেন যে, তারা কাজ করছেন ঠিকই। কিন্তু তাদের কাজ-কর্মের মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতাসীন দলের প্রতি টান, আনুকূল্য ও তাদের স্বার্থের পক্ষে কাজ করছেন- এই কথাটি বেশ ছড়িয়ে পড়েছে।”

রিজভী বলেন, “জনান্তিকে নানা কথা ভেসে বেড়ায়। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এদের মধ্যে সিনিয়র একজনকে দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনারের মাধ্যমে ইসিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম সব ধরনের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সিইসির কাছে বার্তা বাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়।সিইসির দপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।”

রিজভী দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘সেল’ স্থাপন করা হয়েছে।

“গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সেলের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থী না করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা ছিল। নির্বাচন কমিশন আপিলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বহালের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা অনুসরণ করেছে।”

রিজভী দাবি করেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মোবারক হোসেনকে ক্ষমতাসীন দলের ওই ‘নির্বাচন পরিচালনা সেলের’ আইন উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভোট কারচুপির জন্য জোন (অঞ্চল) ভাগ করে পুলিশ বিভাগের ১২ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।… দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জোনগুলোর বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।”

রিজভী বলেন, “আরো জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাটি ইলেকশন ওয়ার্কিং ফোরাম নামে ইসির নিবন্ধিত ২০ সংস্থার ব্যানারে একটি মোর্চা গঠন করেছে। এই মোর্চার অধীনে ২০ হাজার দেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করেছে, যারা নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট কেন্দ্রে থাকবে।”

তবে এসব তথ্যের কোনো উৎস প্রকাশ না করে রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার বিষয়গুলো মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জনগণকে জানাচ্ছি।”

এর আগে বৃহস্পতিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বাড় পড়া বিএনপি প্রার্থীদের অনেকেই নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ইসির প্রশংসা করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেছিলেন, “রিটার্নিং অফিসাররা আমাদের দলের যাদের অবৈধ ঘোষণা করেছিল, নির্বাচন কমিশনের শুনানির মধ্য দিয়ে তাদের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই তারা ন্যায়বিচার করেছেন।”

 

 

sharing-is-caring!
Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
You May Also Like:
  • Recent Updates
  • Top Views News