‘নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছেন’

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া: জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি বা ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা প্রতিদিন অভিযোগ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম দেখে নির্দ্বিধায় বলা যায় নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছেন। নির্বাচনে জড়িত সম্ভাব্য প্রার্থীগন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট।

আজ শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার নিজ বাসভবনে ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসানুল হক ইনু বলেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক পক্ষ বিপক্ষের কারণে কোন রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আছে।

ইনু বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য বলেন, অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না, পক্ষে ওকালতি করবেন না এবং নির্বাচনে অপরাধীদের রাজনীতির মাঠে হালাল করারও চেষ্টা করবেন না।

এসময় কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল আলিম স্বপন, ভেড়ামারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ্যাডঃ আলম জাকারিয়া টিপু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নজরুল ইসলাম, ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সভাপতি এমদাদুল ইসলাম আতা, সাধারন সম্পাদক এস এম আনছার আলীসহ জাসদ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভেড়ামারা হানাদারমুক্ত দিবস আজ

আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মিত্র বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাকে শত্রুমুক্ত করে। এই দিন ৮নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর আবুল মুনছুর ও জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদুল আলম’র নেতৃত্বে ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে ভোর ৭টার সময় ভেড়ামারা ফারাকপুরে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। প্রায় ৭ ঘন্টাব্যাপী এই যুদ্ধে ৮ জন পাকসেনা নিহত হয়। এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকহানাদার বাহিনীর মধ্যে অন্তত ১৫টি খন্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

এরা হলেন, মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (বীর প্রতীক), চাঁদ আলী, লুৎফর রহমান, দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দীন, সাতবাড়ীয়া গ্রামের সোহরাব হোসেন, চাঁদগ্রামের উজির আলী এবং সাতবাড়ীয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম। এছাড়াও এসব যুদ্ধে পাকহানাদারদের নির্মমতার শিকার হয়ে অন্তত শতাধিক মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর দুর্বার প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পাকহানাদার বাহিনী পালিয়ে যায়। পাকহানাদাররা এ সময় মাইনস চার্জ (বোমা) নিক্ষেপ করে হাডিঞ্জ ব্রিজের ১২নং স্প্যানটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।###
ক্যাপশন ঃ ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী বোমা মেরে কুষ্টিয়ার এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি ভেঙ্গে দেয়।

ভেড়ামারায় সা’দ পন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে স্মারক লিপি প্রদান

টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানে সা’দ পন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা উলামা পরিষদ ও তাবলীগী সাথীদের উদ্যোগে আজ শুক্রবার তালতলা মাদ্রাসায় সাংবাদিক সম্মেলন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফের নিকট ভেড়ামারা উপজেলা উলামা পরিষদ ও তাবলীগী সাথীদের উদ্যোগে স্মারক লিপি প্রদান করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, মুফতি আব্দুস সালাম।

বক্তব্য রাখেন, তালতলা মাদ্রাসার মুহতারিম শায়খুল হাদিস মওলানা লিয়াকত আলী, ১২ মাইল মাদ্রাসার মুহতারিম মওলানা আবু বক্কার, জামাতিয়া সুন্নতি মাদ্রাসার মুহতারিম মওলানা আঃ লতিফ, ক্ষেমিরদিয়াড় মাদ্রাসার মুহতারিম মওলানা সাইদুল ইসলাম, দারুন সুন্নাত মাদ্রাসার মুহতারিম মওলানা আঃ রউফ, মওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ কাওছার, মওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা বিবেচনা করে অরাজনৈতিক দ্বীনি দাওয়াতের ঐতিহ্যবাহী এই ধারাকে শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিচালনার স্বার্থে দ্বীনের ধারক বাহক উলামায়ে কেরাম সমর্থিত তাবলীগ দ্বিন কার্যক্রমকে সহায়তা প্রদান। মাঃ সাদ বা এতায়াত পন্থী গ্রুপের নানা অপতৎপরতা ও কার্যক্রম (বিশেষ ১লা ডিসেন্বর’২০১৮) বর্বর হামলার কারণে সাথী শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের বিষয়ে সুষ্ঠ বিচারের নিমিত্তে কার্যকারী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী।