কাঁটাতারের বেড়া আটকাতে পারেনি দুই বাংলার হাজার-হাজার স্বজনের রক্তের টান!

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ভারতের সীঁমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আটকাতে পারেনি দুই বাংলার হাজার-হাজার স্বজনের রক্তের টান। ঠাকুরগাঁও জেলার কোঁচল ও চাঁপাসার এবং ভারতের নাড়গাঁও ও মাকারহাট সীমান্তের তাঁরকাটার এপার-ওপারে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুই বাংলার হাজার-হাজার মানুষের রক্তের টানে উপস্থিতিত্বে যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়।

বর্ষ পুঞ্জিকা অনুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায় প্রতি বছর শ্রী-শ্রী জামর কালির জিউ (পাথরকালী) পুঁজা উপলক্ষ্যে মেলা উদযাপন করে থাকেন। আর এ পুঁজা উপলক্ষে প্রতি বছরে এই দিনে দূরদূড়ান্ত থেকে দু-দেশের স্বজনরা ভীর জমায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা চাপাসার ও রানীশংকৈল উপজেলার কচল সীমান্তের ৩৪৫ ও ৩৪৬ নং পিলার এলাকায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুক্রবার সকাল থেকে দূরদূড়ান্ত থেকে দু-দেশের স্বজনরা সীমান্তে সমবেত হতে থাকে।

স্বজনদের সাথে দেখা ও কথা বলার জন্য সকাল থেকে সীঁমান্তের এপার-ওপারে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় দু-দেশের হাজার হাজার মানুষকে। শেষ পর্যন্ত দুপুর ১২ টায় স্বজনদের ধরে রাখতে পারেনি দু-দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী।

তাঁরকাটার গেট না খুললেও অনানুষ্ঠানিকভাবেই তাঁরকাটার এপারে-ওপারে দাড়িয়ে স্বজনদের দেখা ও কথা হয় একে অপরের সঙ্গে। আদান-প্রদান হয় নানা রকমের খাদ্য ও পন্য সামগ্রী।

স্বজনদের সাথে দেখা করতে আসা সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম (৫০) জানান, এবার দেখা করেছেন তার ছোট বোন সেফালীর সঙ্গে। ১৬ বছর আগে সেফালীর বিয়ে হয় ভারতের মাল্দা জেলার চানমুনী গ্রামে। বিয়ের পর এই প্রথম বোন ও বোনের স্বামীর দেখা পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে তার বোন ও বোনের ছেলে-মেয়ে ও স্বামীকে কাপড় এবং মিষ্টি দিয়ে বেশ আনন্দ ভোগ করেন।

ভারতের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার প্রতীমা রাণী (৬০) জানান, ২০ বছর পুর্বে আমার ছোট মেয়ে কমলারাণীর বিয়ে হয় ভারতের গোয়ালপুকুর থানার পাঁচঘরিয়া গ্রামে। বিয়ের পর আর কথা হয়নি তার সাথে। কিন্তু আজ মেয়ের সাথে তাঁরকাটার এপার-ওপারে দাড়িয়ে কথা বলে এবং কাটাতাঁরের ফাঁক দিয়ে মিষ্টি ও কাপড়-চোপড় দিতে পেড়ে মনে বড় আনন্দ পেয়েছি।

মিলন মেলায় ঘুরতে আসা অনেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা করেন এবং কথা বলেন ও জিনিষ পত্র আদান-প্রদান করেন। তবে দু-দেশের রক্ষী বাহিনীর উর্ধতন কতৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় বিজিবি ও বিএসএফ’র ছিলো করা প্রহরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুÑদেশের নিরাপত্তার দায়িত্বের থাকা বিজিবি ও বিএসএফ ধরে রাখতে পারেনি লাখো মানুষের ঢল।

হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুজ্জামান বলেন, কড়া প্রহরা সত্ত্বেও অনেকে তাঁরকাটার এপার-ওপারে দাড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে কথা বলেছেন ও খাদ্য বিনিময় করেছেন।

এ ব্যাপারে শ্রী-শ্রী জামর কালির জিউ (পাথরকালী) পুঁজা কমিটির সভাপতি নগেন কুমার পাল বলেন, এবার স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও বিএসএফ’র পক্ষ থেকে সীমান্তে কঠোর নজরদারী থাকা সত্বেও অন্য বছরের তুলনায় এবার দু-দেশের স্বজনরা সহজেই তাঁরকাটার এপার-ওপারে দাড়িয়ে কথা বলেছেন ও খাদ্য বিনিময় করেছেন।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter

You May Also Like:

  • Recent Updates
  • Top Views