চর বিজয়ে বর্ষপূর্তি উৎসব পালিত

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: চারিদিকে অথৈ পানির মাঝে প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে আছে বিশাল একখন্ড ভ’মির চর বিজয়। আনন্দ উল্লাসে সেখানেই পালিত হল চর বিজয়ের বর্ষপূর্তি উৎসব।

টুরিজিম সংগঠন চর বিজয় সোসাইটি আয়োজন করেছে এ উৎসবের। কুয়কাটার নতুন টুরিস্ট স্পট চর বিজয়ের সৌন্দর্য্য পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন ছিল সংগঠনটি। দুই দিন ব্যাপী (৪ ও ৬ ডিসেম্বর) এ আয়োজনে ছিল এ চরেই তাবুর নিচে রাত কাটানো, ঘুড়ি উৎসব, ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরা, রাতে ক্যাম্প ফায়ার, ফানুস উৎসব, বাউল ও জারি গানের আসর।

কুয়াকাটা টুরিস্ট বোড মালিক সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর জানান, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বরে সৌখিন পরিব্রাজক আরিফুর রহমান, হোসাইন আমির, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মাও: মাঈনুল ইসলাম মান্নান, কুয়াকাটা টুরিস্ট বোড মালিক সমিতির আলমগীর, ঢাকার দুই পর্যটকসহ মোট ১৩ জন সাগরে ঘুরতে বের হলে সন্ধান মেলে দৃষ্টি নন্দন এ চরের। বিজয়ের মাসে অস্তিত্ব খুজে পাওয়ায় নামকরন করা হয় চর বিজয়।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহেই পর্যটকদের দেয়া নামকেই আনুষ্ঠনিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এসময় তিনি চরটির স্থায়ীত্বের জন্য সংশ্লিস্টদের নির্দেশ প্রদান করেন। পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমনের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, কুয়কাটা পৌর প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, হোটেল মালিক সমিতি, পর্যটন ব্যবসায়ীরা চর বিজয় পরিদর্শন করে। ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান সৃজনে এসময় প্রায় ২ হাজার গোল, ছইলা, কেওড়া ও সুন্দরী গাছের চারা রোপন করা হয়।

উৎসব আয়োজক সদস্য হোসাইন আমীর জানান, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. বঙ্গোপসাগর অভ্যান্তরে অবস্থিত চর বিজয় জেলেদের কাছে হাইরের চর নামে পরিচিত। সৈকত থেকে টুরিস্ট বোট নিয়ে মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছানো যায় এ চরে। বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি হাটু পানিতে ডুবে থাকে। শীত মৌসুমে ধু ধু বালু নিয়ে জেগে উঠে। এসময়ে তিন/চার মাসের জন্য অস্থায়ী বাসা তৈরি করে মাছ শিকার এবং শুটকি তৈরি করে জেলেরা। মানুষের খুব একটা বিচরন নেই বলে শীতে সমাগম ঘটে কয়েক লক্ষ অতিথি পাখির। আবার শীত কমে আসলেই চলে যায় যে যার আপন দেশে।

বর্ষপূতি উৎসবের আয়োজক সদস্য আরিফুর রহমান জানান, সফলভাবে আমাদের বর্ষপূর্তি ক্যাম্পিং সমাপ্ত হয়েছে। সাগরের মাঝে তাবু খাটিয়ে পর্যটদের রাত কাটানোর অনুভ’তি ছিলো অন্যতম আকর্ষণ। আশা করি সঠিক তদারকিতে চর বিজয়ে তৈরি হবে একটি বাসযোগ্য নতুন সমভূমি হিসাবে। যাকে ঘিরে কুয়কাটার পর্যটন শিল্পে তৈরি হবে আরেক ভিন্ন মাত্রা।