১৫ দিনের শিশুকে বাড়ির পুকুরে ফেলে দিল পরিজনরাই!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিছানা থেকে নিখোঁজ ১৫ দিনের শিশু। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পুকুর থেকে তার পচগলা দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়াল ভারতের পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির সফিয়াবাদ গ্রামে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। এলাকায় মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। এদিকে এই ঘটনায় আগেই শিশুটির বাবা, মা-সহ পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের সফিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা শুভজিত্‍ পয়ড়্যা পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শুভজিতের একটি কন্যাসন্তান আছে। দিন পনেরো আগে ফের কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তাঁর স্ত্রী। প্রতিবেশীদের দাবি, দ্বিতীয়বারও কন্যাসন্তান হওয়ার পারিবারিক অশান্তি চরমে ওঠে। সবসময় মনমরা হয়ে থাকত ওই যুবকের স্ত্রী সীমা ও তাঁর মা জ্যোত্‍স্না সামন্ত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় ১৫ দিনের শিশুটি।

সফিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, শুভজিত্‍ ও তাঁর স্ত্রী সামী জানায়, রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে শুয়েছিল তারা। শিশুটিও বাবা-মায়ের সঙ্গেই ছিল। মাঝ রাতে পাশ ফিরে সীমা দেখে, শিশুটি বিছানায় নেই। সারা বাড়িতে তন্নতন্ন করে খোঁজে শিশুর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি জানাজানি হতেই গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরের দিন অর্থা্ত্‍ শুক্রবার সিভিক ভলান্টিয়ার শুভজিত্‍ পয়ড়্যার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

তাঁদের অভিযোগ, পরিবারের লোকেরাই পরিকল্পনামাফিক শিশুটি খুন করেছে। আর সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিখোঁজ হওয়ার মিথ্যা নাটক করছে তারা। শুভজিত্‍ পয়ড়্যা, তার স্ত্রী, বাবা-মা ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পুকুরে দুধের শিশুটির পচগলা মৃতদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় নাতনিকে খালের জলে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে শিশুর দাদু। সেই মতো কুকুর নিয়ে স্থানীয় আমতলি খালে তল্লাশিও চালিয়েছিল পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন বলছেন, খালের কথা বলে তাঁদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে অভিযুক্তরা।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like: