নাশকতা মামলায় বিএনপি নেতা আলী আব্বাসসহ ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

৪:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮ চট্টগ্রাম

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী থানায় নাশকতার ৩ মামলায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক আলী আব্বাস সহ দলটির ১৬৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

গত শনিবার ১৫ ডিসেম্বর কর্ণফুলী থানা বিশেষ ক্ষমতা আইন ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় ৩ জন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন আদালতে চার্জশিট গুলো দাখিল করেন।

এসব অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা মোঃ আলী আব্বাস-সহ তিন মামলায় ৯২ জনকে নতুন করে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ আসামিদের পলাতক দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করেছে।

আদালতে কর্মরত সংশ্লিষ্ট থানার জিআরও শাহাদাত হোসেন তিন মামলার চার্জশিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটে উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন – গিয়াস উদ্দিন ফারুকী, মোঃ নুরুল আফছার, মোঃ ইদ্রিস, মোঃ শাহাজান প্রকাশ মুন্না, ইসমাইল হোসেন খোকন, আব্দুর রহমান, মোঃ নাছির, মোঃ আলমগীর, মোঃ খোকন, মোঃ হাসান, নুরুল আক্তার, সালা উদ্দিন, আব্দুল গফুর মেম্বার, হারুনুর রশিদ কাঁকন প্রকাশ লাল গোলাপ, এটিএম হানিফ, দস্তগীর, ইকবাল বাহার, সালেহ জহুর, এজাবত উল্লাহ, মোঃ জসিম উদ্দিন জুয়েল, মোঃ হাসেম, রমজান আলী রুমো, মোঃ মাঈন উদ্দিন, মোঃ ইলিয়াছ মেম্বার, মোঃ শাহেদ ফকির প্রকাশ ইয়াবা শাহেদ, জসিম উদ্দিন, আব্দু সালাম, মোঃ নাছির আহম্মেদ, আবু তাহের, আংকুর মেম্বার প্রকাশ তৈয়বুল আলম, মোঃ নাছির, পেয়ার আহমেদ, আবু তাহের, আব্দুর রহিম, আবু সৈয়দ, মোঃ জামাল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন লিটন, জাগির হোসেন, মোঃ ফারুক, মোঃ হারুন, তৈয়বুল আলম বাবুল, আব্দুর নুর, মোজাম্মেল হক, মোঃ নাছির, আব্দুর নুর প্রকাশ কালু মেম্বার, মোঃ ওসমান, এহসানুল হক, মোঃ সেলিম, মোহাম্মদ আলী আব্বাস, মোঃ সোলায়মান, মোঃ জাহেদুল ইসলাম, মোঃ ইদ্রিস হায়দার প্রকাশ নয়ন, মোঃ শফি, মোঃ নুরুচ্ছাফা, মির্জা ইসমাইল, মির্জা বাহার, খায়রুল ইসলাম, শেখ আহমেদ, আব্দুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, সাঈদ হোসেন, আবুল কালাম, আব্দুল নবী প্রকাশ বদি আলম, অলি আহমদ, মোঃ সালা উদ্দীন, মাহবুবুল আলম, আবছার উদ্দীন, মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রকাশ বুলুক্কে, নঈম, তৈয়ব আলী, মোঃ সিরাজ, জসিম উদ্দিন, আবুল কালাম, মুছা সিকদার, মোঃ কালা মিয়া প্রকাশ কালু মেম্বার, ছমি উদ্দিন, আব্দু সাত্তার, বাবুল, মোঃ গোল হোসেন, নুর নবী, সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ কুটি, দেলোয়ার হোসেন, নুরুল হক, সাব্বির, সাইদুল হক, আলিম উদ্দিন, ইলিয়াছ, আকিব জাবেদ, হাসমত আলী, মোঃ মনির আহাম্মদ প্রকাশ মনির উদ্দিন, রহমত উল্লাহ, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মোঃ আতা উল্লাহ, মোঃ মুন্না, ডাক্তার সাকের, মোঃ হেলাল, মোঃ এনাম, মোঃ শামীম, সুলতান আহাম্মদ, মোঃ হোসেন, মোঃ শাহাজাহান, মোঃ ফোরকান সহ প্রমূখ।

গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ১৫(৩) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অপরাধে ১০টি মামলা দায়ের করেন। যার এক মাসের মাথায় ৩ মামলায় ১৬৬ জনকে অভিযুক্ত করে কর্ণফুলী থানার এসআই সুজন বড়ুয়া, এসআই মোঃ আলতাফ হোসেন ও এসআই কাজী মনিরুল করিম চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী থানা মামলা নং ১০, বাদী এসআই মোঃ মুকুল মিয়া ৫৮৩নং অভিযোগপত্রে ৬৪ জনকে চার্জশিটভুক্ত আসামি, কর্ণফুলী থানা মামলা নং ৬৯, বাদী এসআই নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া ৫৮৮নং অভিযোগপত্রে ৪৪ জন ও কর্ণফুলী থানা মামলা নং ১২, বাদী এসআই ফজলে রাব্বি কায়সার ৫৮৭নং অভিযোগপত্রে ৫৮ জন সর্বমোট ১৬৬ জনকে অভিযুক্ত করেন। এজাহারনামীয় গ্রেফতারকৃত আসামী ব্যতিত বাকিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

এমনকি এতে একাধিক মামলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে।