কুমিল্লায় চার ওসির প্রত্যাহার চেয়ে দুই বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

১২:২৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮ চট্টগ্রাম

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি: বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে গায়েবী মামলায় হয়রানি ও নির্বাচনী প্রচারনায় হামলা এবং সরকার দলীয় প্রার্থীর সাথে প্রচারণায় অংশ গ্রহনের অভিযোগ এনে কুমিল্লার তিন থানার ওসির প্রত্যাহার চেয়ে বিএনপির দুই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

কুমিল্লায়-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের ওসির পরিবর্তন চাইলেন বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবী করেন তারা।

দুপুরে কুমিল্লার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের বিএনপির প্রার্থী কে.এম মুজিবুল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ২ দিনে এই আসনের দুই থানায় ৪টি গায়েবী মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ৪টি মামলায় ১শ ৭১ জন নামীয় অজ্ঞাত আরো ১শ জন বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সহযোগীতায় সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাংচুর, প্রচার প্রচারনায় বাধা, পোস্টার-ফেস্টুন ছিড়ে ফেলছে। পুলিশ প্রতিদিন নেতাকর্মীদের বাড়ী থেকে ধরে এনে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে চালান করে দিচ্ছে। এ সময় বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে পুলিশ ও রিটানিং অফিসার বরাবরে আবেদন করলেও কোন ফল আসছে না।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানার দুই ওসিকে পরিবর্তন না করলে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস এর কুমিল্লা বাস ভবনে হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০ টায় একদল দূর্বৃত্তরা তার বাড়ীতে অর্তকিত হামলা চালায়। এ সময় বাড়ীতে গুলিসহ বাড়ীর সামনে রাখা দুটি গাড়ী, ৪টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অহেতুক হয়রানি করছে পুলিশ। গত দুই দিনে দুই উপজেলায় ৫টি গায়েবী মামলা দায়েরসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুড়িচং থানার ওসির প্রত্যাহার চেয়ে তিনি বলেন, বুড়িচং থানার ওসি নিজে অফিসারদের নিয়ে সরকারী দলের প্রচার-প্রচারনায় যাচ্ছে। সরকারী দলের লোকজন বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে। অথচ পুলিশ উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের ফোন করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।