• আজ ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কর্ণফুলীতে সেনা ও বিজিবির মাঠে টহল: ভোটারদের দ্বারে দ্বারে জাবেদ, নেই নিজামের উপস্থিতি

৫:৫০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮ চট্টগ্রাম

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ দুই উপজেলার পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি এবারে নারী ভোটারদের বেশ গুরুত্ব দিয়ে ভোট চাইছেন।

মাঠে রয়েছে আজ থেকে সেনা ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরোয়া উঠান বৈঠকে মহিলা ভোটারদের বুঝাচ্ছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী ৩০ তারিখে যেনো নৌকা প্রতীকে তাদের রায় প্রদান করে। মহিলা ভোটারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিজ পায়ে দাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

এদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দী বিএনপি প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এখনো মাঠে নেই। অন্য ইসলামী দল গুলোর প্রার্থীরা যেখানে মাইকিং, ব্যানার, পোস্টারে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেখানে তিনি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েও মাঠে নেই। অপরদিকে অনেকটা ফাকা মাঠে এগিয়ে গেছে নৌকা সমর্থিত প্রার্থী ভূমি প্রতিমন্ত্রী জাবেদ। বেশ জোরেসোরে চলছে তার প্রচার প্রচারণা প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন তিনি।

গত কয়েক মাস আগে থেকেই কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা, চরলক্ষ্যা, জুলধা ও বড়উঠানের ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জাবেদের সর্মথনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে আসছেন। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার অনেক মতবিনিময় সভা, আলোচানা সভা ও পথসভায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী নিজে উপস্থিত হয়েও গ্রামের নারী পুরুষ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট
প্রার্থনা করছেন।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপি মাঠে নেই বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতারা কেমন দেখছেন। মাঠে ধানের শীষের জনসম্পৃক্ততা নেই! নাকি মামলা হামলা বা পুলিশী হয়রানির ভয়ে মাঠে আসছেনা। যদিও বিএনপি
প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম দাবি করেন, মাঠে কোন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও পরিকল্পিত হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের সব জায়গায় নালিশ করেও কোনো
প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘ধানের শীষ প্রার্থীর এসব অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। তিনি কোন মুখে ভোট চাইবেন। কর্ণফুলীর ভোটারেরা এখন অনেক সচেতন। যে নেতা গত ১০ বছরে জনগণের খবর নেয়নি। তাকে হয়তো জনগণ প্রত্যাখান করেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা নবসৃষ্ট কর্ণফুলী উপজেলা সৃষ্টি জনগণের বড় প্রাপ্তি। নিশ্চয় আগামী ৩০ তারিখ ভোটের মাধ্যমে জনগণ এর প্রতিদান দেবে।’

অপরদিকে আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘আমরা কিভাবে মাঠে থাকব আমরা বাড়ি ঘরে যেতে পারছিনা। পোস্টার লাগাতে গেলে আওয়ামী লীগের লোকেরা দৌড়ায়। আর মিটিং করলে রাতে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে।’

তিনি আরো জানান, দুই উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০টির অধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মীকে।

এমনকি তিনি দাবি করেন – রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কেউ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতনের প্রতিকার করছেন না। প্রতিকার না পেয়ে হামলা ও মামলার ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

নির্বাচনী পরিবেশ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম মুঠোফোনে বলেন, ‘অভিযোগ জানাতে ওসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফোন করলেও ফোন ধরেন না। অভিযোগের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। রিটার্নিং অফিসার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের সবাই এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেন তিনি।

অপরদিকে মাঠে নেই কেনো জানতে চাইলে তিনি জানান, কৌশলগত কারণে তারা এখন মাঠে নেই তবে ২৪ তারিখের পর তারা মাঠে সক্রিয় হতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।’