পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ গিলে খাচ্ছে ইটভাটা!

৫:৫৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, জানুয়ারি ৫, ২০১৯ চট্টগ্রাম

এফ এম সুমন, পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশেই গড়ে উঠেছে অবৈধ ৩ ইটভাটা। আর এসব অবৈধ ইটভাটাগুলোতে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের গাছ।

জানা যায়, সরকারের পরিবেশ আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ (তিন) কিলোমিটারের ভিতরে কোন ইটভাটা স্থাপন করে ইট পোড়া নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে গড়ে উঠা পেকুয়ার ওই ইটভাটাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা মানা হচ্ছেনা। এখানে গড়ে উঠা ইট-ভাটাগুলোর দুরত্ব সরকারী বনাঞ্চলের মাত্র এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই। পাহাড় বেষ্টিত বনাঞ্চলের সন্নিকটে অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অবস্থান হওয়ায় প্রতিনিয়ত পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের রকমারী গাছ-গাছালি।

অন্যদিকে ইট উৎপাদনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে ফসলী জমির উপরিভাগ (টপ সয়েল)। মানসম্মত ইট তৈরীতে খনিজ কয়লা পোড়ানোর জন্য সরকার বাধ্যতামূলক করে আইন পাশ করলেও এসব ইট-ভাটাগুলোতে প্রতিনিয়িত পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ। সামান্য কয়লার গুড়া ওই ইটভাটাগুলোর সামনে লোক দেখানোর জন্য মজুদ রাখা হয়েছে মাত্র। তাও এগুলো জ্বালানোর উপযোগী নয়, মাসের পর মাস স্তুপ অবস্থায় পড়ে থাকে ইট ভাটাগুলোতে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিকট অবৈধভাবে এসব ইটভাটা গড়ে ওঠলেও তাদের বিরুদ্ধে নেই কোন দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা। ফলে তারা আরো দ্বীগুন উৎসাহিত হয়ে বেপরোয়া ভাবে বন ও পরিবেশের মারাত্মক্ষ ক্ষতি সাধন করে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারনে প্রতিনিয়িত উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আর হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ১০/১২ বছর পূর্বে পেকুয়া উপজেলার টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিকট ৩টি ইটভাটা গড়ে ওঠে। এসব ইটভাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এক কিলোমিটারের মধ্যেই।

জানা গেছে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে। ইটভাটা মালিকরা সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকতারা ওই অবৈধ ইটভাটা গুলোর মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের মাসোয়ারা নিয়ে প্রতিনিয়ত বনের গাছ দিয়ে নির্বিচারে ইট পোড়ানোর কাজে বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। তারা এসব অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানান।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবদুল গফুর মোল্লা বলেন, পেকুয়ার তিনটি ইটভাটার একটিরও লাইসেন্স নাই। আমি নতুন যোগদান করেছি। শিগরিই পেকুয়ার এসব অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Loading...