সাগুদানার উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক- সাগুদানা আমাদের খুব পরিচিত একটা খাবার। ছোটবেলা অসুখ হলেই সাগু খেতে হত।

জ্বর হয়েছে আর সাগু খাননি এমন লোক খুব কমই আছে।প্রাচীন কালে সাগু রোগী বা বাচ্চাদের খাবারের তালিকায় থাকলেও বর্তমানে সাগুতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে । আজকাল সাগু দিয়ে নানা ধরনের মজাদার ফালুদা, পায়েস , সুজি – সাগুর হালুয়া ছড়াও আলু ও অন্যান্য সব্জির সংগে পানিতে ভেজানো সাগু দিয়ে চপ ,বড়া তৈরি করা হয়।

তবে সবচাইতে মজাদার খাবার হচ্ছে নবাবি দুধ-সাগু বাকরখানি । এটি শর্করার বেশ ভাল একটি উৎস। সাধারনত দেখতে ছোট ছোট সাদা দানাদার আকারের মুক্ত দানার মত। সাগুদানাকে ইংরেজিতে “সাগু পার্ল” বলে। তবে টরন্টোতে চাইনিজ মুদি দোকান গুলোতে নানা রঙের, নানা আকারের সাগুদানা পাওয়া যায়।shabu

কিন্তু কোথা থেকে আসে এই সাগু বা সাবুদানা। এটি কি কোন গাছে ধরে? নাকি একেবারেই হাতে বা মেশিনে তৈরি করা হয়? আমরা খুব কমজনেই এসকল প্রশ্নের উত্তর জানি। আসুন আমরা জানার চেষ্টা করে দেখি কোথা থেকে আসে এই সাগু।

এক প্রকার পাম গাছ থেকে এই সাগু উত্পাদিত হয় যার বৈঙ্গানিক নাম Metroxylon sagu. এই নামের Metroxylon শব্দটি গ্রিক Metro থেকে এসেছে, যার অর্থ “গাছের নরম অন্তসার” আর xylon অর্থ “কাঠ” থেকে এসেছে। এটি Arecaceae ফ্যামিলির একটি উদ্ভিদ।

লম্বায় ৭ থেকে ১৭ মিটার পর্যন্ত হয়। কখনো কখনো ২৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ২০-২৫ টির মত পাতা হয়। এটি একটি ওষধি গাছ, মানে এতে একবারই ফুল ফোটে এবং ফলে ধরার পর গাছ মারা যায়।

অনেকে ধারণা করেন সাগু আসলে গাছের ফল। যদি গাছের ফলই না হয় তা হলে এটা কিভাবে পাওয়া যায়? এখন কথা হচ্ছে, গাছের কোথায় সাগু ধরে? এটা অনুমান করা সহজ কিন্তু সঠিক উৎসটা কল্পনায়ও আসার কথা নয়। আসলে সাগু পাওয়া যায় এই পাম গাছের কান্ডের ভেতরে।

তবে ওরকম গোল দানাদার আকারে নয় , ওরকম গোল গোল পরে বানানো হয়। ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সে যখন সাগু গাছে ফুল ধরার সময় হয়, তখন গাছ কেটে এর কান্ডকে চিড়ে ফেলা হয়। এরপর এর কান্ডের ভেতরের নরম “পিথ”কে ধারাল কিছু দিয়ে কুপিয়ে আলাদা করা হয়।

এরপর একে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর ভেতরের স্টার্চ পানির নিচে জমা হয়। পানি দূর করে এই সাদা রংয়ের স্টার্চকে আলাদা করে শুকানো হয়। শুকিয়ে নিলে, এটাকে বলে সাগুর ময়দা। একে এভাবেই খাওয়া যায়।তবে এই ময়দা আকারে সাগু সাধারনত আমরা খাই না।

আমরা যে সাগুদানা খাই তা মেশিনে সাগুর ময়দা থেকে ছোট ছোট দানা আকারে তৈরি করা হয়। একটি পূর্ণ গাছ থেকে ১৪০ থেকে ৩৫০ কেজি পর্যন্ত সাগু পাওয়া যেতে পারে। সাগু প্রধানত উৎপাদিত হয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভারতে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like: