হিংসাদীর্ণ পৃথিবীতে আজও বেঁচে মানবতা

১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ৯, ২০১৯ চট্টগ্রাম

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দুর্নীতি, হিংসা, স্বার্থপরতা আজ পৃথিবীর আনাচেকানাচে। কিন্তু এরই মাঝে আজও বেঁচে আছে মানবতা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। যে জন্য আজও হয়ত পৃথিবীটা বাসযোগ্য। সেই অপার মানবতার অন্যতম নিদর্শন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান।

শীতের রাতে ফুটপাতে নালার পাশে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। আশপাশে মানুষের ভিড়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফুটপাতে জন্ম হয় ফুটফুটে এক শিশুর। মায়ের নাড়িতে জড়িয়ে থাকা শিশুটি ফুটপাতের ধুলায় গড়াগড়ি করতে থাকে। কিন্তু এগিয়ে আসেনি কেউ। খবর পেয়ে ছুটে আসে এসআই মাসুদুর রহমান। দ্রুত মা ও শিশুকে নিয়ে যান হাসপাতালে। সেখানে কাটা হয় নাড়ি। প্রাণে বাঁচলেন মা ও শিশু।

গত সোমবার রাত আটটার দিকে নগরের আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী ও কন্যাশিশুটি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আগ্রাবাদ এলাকার ভ্রাম্যমাণ চা–বিক্রেতা তারানা আক্তার বলেন, তিন বছর ধরে আগ্রাবাদ এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন এক নারী। সবাই তাঁকে রোজিনা আক্তার নামে চেনে। দিনের বেলায় এদিক-ওদিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সামনের ফুটপাতে থাকেন। সোমবার রাতে রোজিনা প্রসব যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকলে লোকজন জড়ো হয়। পরে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। তখন শিশুটির নাড়িও কাটা হয়নি। এগিয়ে আসেনি কেউ।

তারানা আরও বলেন, ভিড় ঠেলে একজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে এলেন। ওই নারী ও শিশুকে নিয়ে যান হাসপাতালে। পুলিশের অনুরোধে তিনিও সঙ্গে যান।

চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে নিতে যদি আধাঘণ্টা দেরি হতো তা হলে নবজাতক কন্যাটির প্রাণ বাঁচানো যেত না। কারণ নবজাতক তার মায়ের মল খেয়ে ফেলেছিল। চিকিৎসকরা দ্রুত তা ওয়াশ করে প্রাণ রক্ষা করেছেন। মায়ের অবস্থাও সংকটাপন্ন ছিল। তাকেও বাঁচানো গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে মা ও শিশু উভয়ে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে সুস্থ এবং ভালো রয়েছেন। তাদের প্রাণটা রক্ষা করতে পেরেছি, এটিই ভালো লাগার বিষয়।