সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সুইডেনে চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীদের নিয়ে গবেষণা করছেন  ড. মনজুর কাদের

৬:৪০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ গুণীজন সংবাদ

মুন্নি আক্তার, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ সুইডেনে কর্মরত চিকিৎসা সেবাকারীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করেছেন বাংলাদেশের ড. মনজুর কাদের।

বিভিন্ন চিকিৎসা পেশাজীবী লোকজন যেমন নার্স, ধাত্রী, চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টগণ সবাইকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সকলের ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন সকাল-দুপুর-রাত!  তাদের অনেকেই কখনও সময়ের অতিরিক্ত কাজ বা  বিভিন্ন শিফটে কিংবা সারা রাত অনিদ্রায় থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সবাইকে। কিন্তু এভাবে কাজ করতে এসব চিকিৎসা পেশাজীবী লোকজন নিজেরাও অনেক ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির শিকার হচ্ছেন, আর বিষয়টা নিয়েই গবেষণার কাজ করেছেন ড. মনজুর।

তাঁর গবেষণার বিষয় হচ্ছে  অতিরিক্ত কাজ বা বিভিন্ন শিফটে বা রাতে অনিদ্রায় থেকে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে মারাত্মক কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে কিনা তা খুঁজে বের করা, যেমন বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার, স্ট্রোক, বিভিন্ন হার্টের অসুখ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন বা হার্ট অ্যাটাক এবং বিভিন্ন ধরণের গর্ভধারণ জনিত সমস্যা।  সুইডেনের স্বনামধন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কারোলিন্স্কা ইনস্টিটিউট-এ (Karolinska Institute) তিনি এই কাজটি করছেন্। সুইডেনের জাতীয় পর্যায়ের প্রায় আশি হাজার বিভিন্ন চিকিৎসা পেশাজীবী লোকজন যারা ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কর্মরত ছিলে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই কাজ শুরু করেছেন। তাছাড়া তিনি উক্ত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে  শিক্ষকতার কাজ করছেন।

ইতিপূর্বে তিনি সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি হতে পারকিনসন্স রোগ নিয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে পিএইচডি বা ডক্টরেট উপাধি অর্জন করেছেন। ড. মনজুর কাদের  জন্মেছেন সিলেটের হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় গ্রাডুয়েশন সম্পন্ন করে উচ্চতর পড়ালেখার জন্য সুইডেনে পাড়ি জমান ২০০৫ সালে। তারপর থেকেই সুইডেনে গবেষণায় নিয়োজিত আছেন। ইতিমধ্যে চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় যেমন ফিজিওথেরাপি, পার্কিনসন্স রোগ, পুষ্টিহীনতা , স্থুলতা, নারী- ও শিশু স্বাস্থ্য, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করেছেন যেগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সুইডেনে পেয়েছেন অনেকগুলো পুরষ্কার।