‘বুকুমাতুলা’, যেখানে ভালোবাসায় নেই কোন বাঁধা

‘বুকুমাতুলা’, যেখানে ভালোবাসায় নেই কোন বাঁধা

চিত্র-বিচিত্র ডেস্ক :: ভালোবাসার মুক্ত দুনিয়া। মুক্ত দুনিয়ায় কিছু কিছু দেশে অবাধ প্রেমে বাধ্যবাধকতা থাকলেও একবারেই নেই সেখানে। ইচ্ছা হলেই নারী বা পুরুষ তার সঙ্গী বদল করতে পারে। বেছে নিতে পারে পছন্দের সঙ্গীকে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হলেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।

এমন সম্পর্ক স্থাপনে প্রতিটি গ্রামে বিশেষ আকৃতির কুঁড়েঘর আছে। একে বলা হয় ‘লাভ হাট বা ভালোবাসা ঘর।’ স্থানীয়ভাবে ঘরটিকে বলা হয় বুকুমাতুলা। ভালোবাসায় নেই কোনো বাধা, নেই কোনো অনুযোগ। সবার জন্যই সেখানে সমান অধিকার।

তবে তাদের সম্প্রদায়ের বাইরে কারো সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে না তারা। এমন সংস্কৃতি পাপুয়া নিউ গিনির ট্রোবিয়ান্ড দ্বীপপুঞ্জে। সেখানকার বসবাসকারী নারীদের বেশির ভাগই থাকে খোলামেলা।

তাদের শরীরের উপরের অংশে কোন পোশাক থাকে না। কোমরে জড়ানো থাকে এক টুকরো কাপড়। সেই অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে তারা ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে।

ইচ্ছা হলেই পছন্দের কোনো সঙ্গীকে নিয়ে বুকুমাতুলায় আদিমতায় মেতে ওঠে। নারী-পুরুষ সবার বেলায় একই। এত অবাধ যৌনাচার সেখানে।
ট্রোবিয়ান্ড দ্বীপপুঞ্জের মানুষরা মনে করেন, শিশুর জন্ম মানে এক ধরনের জাদু। এতে যৌনতা, গর্ভধারণের কোন সম্পর্ক নেই। তারা কলাপাতা ও মিষ্টি আলুকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে।

শুকানো কলাপাতাকে তারা মুদ্রা হিসেবে ধরে। এক পাউন্ড মুদ্রার মূল্যমানের সমান ধরা হয় ৫০টি কলাপাতা। এ সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে থাকেন মহিলারা। তাদের ইচ্ছামতো যত খুশি প্রেমিক রাখতে পারেন।

বিয়ের আগে ও পরে অবাধ যৌনাচারে মাততে পারেন। মেয়েদের কুমারিত্বের মূল্য নেই সেখানে। ওই দ্বীপপুঞ্জের ভাইকিকি গ্রামের গ্রামপ্রধান সব সময় পান বহন করেন। পাথর বহন করেন। বহন করেন ফলাযুক্ত হাতিয়ার। আর এগুলো বানানো হয় পাখির হাড়, মানুষের হাড় থেকে। যদি কোন যুবতী অন্তঃসত্ত্বা হয় তাহলে তার বাচ্চাকে রেখে দেয় তার পরিবার।

স্থানীয় রীতি অনুযায়ী, ওই যুবতীর স্বামী শুধু তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়কে উন্মুক্ত করে দেয়। নবজাতকের আসল পিতা ধরা হয় ঐশ্বরিক শক্তি।

ইদানীং সেখানকার কিছু মানুষ স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এতে সামান্যই পরিবর্তন আসছে। বিয়ে বলতে কিছু নেই। সেখানে একজন নারীর জীবনে একজন পুরুষ শুধু তার যৌন বাসনা চরিতার্থ করে। এটাই একজন মহিলার কাছে বিবাহিত জীবন।

অবাধ যৌনাচারে এইচআইভি ও এইডস-এর মতো ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে সেখানে। যৌন মিলনে তারা কোন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ব্যবহার করে না।

১৭৯৩ সালের দিকের ঘটনা। দ্বীপটি আবিষ্কার করেন ফরাসি জাহাজ এসপেরেন্সের লেফটেন্যান্ট ডেনিস ট্রোবিয়ান্ড। তার নামানুসারেই দ্বীপটির নামকরণ হয়।