দিনাজপুরের ঘাগড়া-ক্যানেল-খাল বিপন্ন, খননের উদ্যোগ

দিনাজপুরের ঘাগড়া-ক্যানেল-খাল বিপন্ন, খননের উদ্যোগ

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোটৃার,দিনাজপুর থেকেঃ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতার কারণে অবৈধ দখলদারদের কড়াল গ্রাসে দিনাজপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী  ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেলসহ অসংখ্য খাল।

এসব ঘাগড়া-গীর্জা ক্যানেল ও খালগুলো এখন অবৈধ দখলের স্থাপনা আর নোংরা,আবর্জনার স্তুপে প্রায় বিপন্ন। একারণে শুধু বর্ষা নয়, শুষ্ক মৌসুমেও  সামান্য বৃষিপাতে ময়লা পানিতে হয় সয়লাফ । দীর্ঘদিন থাকছে জলাবদ্ধতা। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ। তবে এসব খাল উদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে,দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।

দেখে বুঝার উপায় নেই, এটা ঘাগড়া না গীর্জা ক্যানেল ! প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার বৃট্রিশ আমলে খননকৃত প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘাগড়া না গীর্জা ক্যানেল এখন নির্বিচার আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। দখলের ধারাবাহিকতায় মরে যেতে বসেছে এই খাল দু’টি। এক সময় স্বচ্ছ পানির উৎস ছিল এই খাল। তাতে হতো মাছ চাষ । এখন ফেলা হচ্ছে, নোংরা-আবর্জনা। দূর্গন্ধে উপায় নেই নিশ্বাস নেয়ার । কিন্তু পরিষ্কার ও সংস্কার করারও উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এমন অভিযোগ এলাকাবাসী’র।

১৪ কিলো মিটার দীর্ঘ  ও ৩০ থেকে ৪০ বর্গ ফুট প্রস্থ এই ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল এখন সংকুচত হয়েছে। খাল ভরাট করে বিস্তৃত হচ্ছে শহর। গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন. ঘর-বাড়ি,দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট,হাট-বাজার,ক্লাব-সমিতির অফিস ও ধর্মীয় উপাসানালয়। পানি প্রবাহ আটকে দেওয়া হয়েছে। একারণে শুধু বর্ষা নয়, শুষ্ক মৌসুমেও  সামান্য বৃষিপাতে ময়লা পানিতে সয়লাফ হচ্ছে দিনাজপুর শহর। দীর্ঘদিন থাকছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে প্রকৃতিতে বিপর্যয় নেমে আসছে। এমনি কথা বলছেন,পরিবেশবিদ প্রফেসর এম এ জবাবার। তিনি বলেন, ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেলসহ অসংখ্য খাল রয়েছে দিনাজপুরে। তা দখলমুক্ত করে খনন করা জরুরী। তা না হলে শহরসহ জেলার জন্য তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

তবে, তা স্বীকার করলেও তা উদ্ধারে ব্যর্থতার কথা জানাচ্ছেন পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে খাল দু’টি। তা মুক্ত করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি উপর মহলের চাপে।

তবে ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেলসহ জেলার ১৪টি খাল অবৈধ দখলদারদের আগ্রাসনের থেকে উদ্ধার  ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তা কতদূর অগ্রসর হবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো.ফইজুর রহমান।

কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতায় অবৈধ দখলদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ায় দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল বিলুপ্ত হতে চলেছে। এতে জীব-বৈচিত্র বিনষ্টের পাশাপাশি বিপর্যন্ত হচ্ছে পরি্েবশ। এ গীর্জা ও ঘাগড়া ক্যানেল উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি দেয়ার পাশিপাশি জনসচেতনতারও তাহিদ দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা।