বিত্তশালী ও বিসিএস ক্যাডার ছেলে-মেয়েদের কাছেও ঠাঁই হয়নি মৃদুলার

৩:১০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর, ফেনী :: মৃদুলা রানী সাহার বয়স প্রায় ৮০ বছর। তাঁর পাঁচ ছেলেমেয়ে, সবাই প্রতিষ্ঠিত। মৃদুলার দুই ছেলে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করেন, এক ছেলে বিসিএস কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে দুই মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়ি। অথচ মৃদুলাকে গ্রামের বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে হলো তিন দিন! খোঁজ নেননি কোনো সন্তান। শেষে পুলিশ গিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে এই বৃদ্ধার।

জানা যায়, গ্রামের একটি বাড়িতে একাকি থাকেন ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা। ছোট্ট একটি ঘরে অনাহারে, অর্ধাহারে, অযত্ন আর অবহেলায় মৃত্যমুখে মা। দেখারও কেউ নেই। মঙ্গলবার বিকেলে ফেনী পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ড মধুপুর থেকে মৃদুল সাহা নামের ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

পরে ওই মায়ের দেখাশুনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে ফেনীর সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়’। চিকিৎসার ভার গ্রহণ করেছেন ফেনী জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির ও জেলা পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

স্থানীরা জানায়, দীর্ঘ ৪ বছর ধরে মধুপুরের ওই বাড়িতে একা থাকেন বৃদ্ধা মা। তার বড় ছেলে বাপ্পি সাহা ও বিপুল সাহা ফেনী শহরের চালের আড়তের মালিক। তাদের বাবা হরিপদ সাহার রেখে যাওয়ার চালের আড়তে ব্যবসায়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় মায়ের খোঁজ নেননি তারা। স্ত্রী-ছেলে মেয়ে নিয়ে অন্য বাসায় থাকেন তারা।

অপর ছেলে সুশান্ত সাহা বিসিএস ক্যাডার। থাকেন কক্সবাজার (অতিরিক্ত উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার)। মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শর্বরী সাহা ও গৃহিনী সুমি সাহা থাকে শ্বশুরালয়ে।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ পোদ্দার বাড়ির ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে। এমন ঘটনায় স্থানীয়রা ঘৃণা জানায় উচ্চশিক্ষিত এই পরিবারকে।

ফেনীর সিভিল সার্জন হাসান শাহরিয়ার করিব জানান, বৃদ্ধা মা ভবিষ্যতে স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে পড়তে পারেন। তাকে অবজারবেশনে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, এই বৃদ্ধা মাকে সন্তাররা মেরে ফেলার চক্রান্ত করছিল কি না তা দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়ের প্রধান সমন্বয়ক মঞ্জিলা আক্তার মিমি বলেন, অসহায় মায়ের পাশে আছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়ের সদস্যরা। সার্বিক দেখাশুনা মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে মায়ের প্রতি সন্তানদের এমন অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে।

অপরদিকে মৃদুলার তিন ছেলে টুটুল সাহা, সুশান্ত সাহা, বাপ্পি সাহা এবং মেয়ে শর্বরী সাহা বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তাঁরা এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ছেলেদের দাবি, তাঁরা নিয়মিত মায়ের খোঁজ নিতেন। কিন্তু গত কয়েক দিন খবর নিতে পারেননি। ওই সময়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এ সময় ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার সন্তানদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেন। ভবিষ্যতে এমন কাজ আর হবে না বলে অঙ্গীকার করেন মৃদুলার সন্তানেরা। মৃদুলা রানী সাহার সন্তানেরা ঠিকভাবে তাঁর দেখভাল করছেন কি না, সেই বিষয়টি তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেনী সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন সাহাকে।