দুই কেজি গাজা কম দেওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন!

১১:২০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ আলোচিত
Image98

সময়ের কণ্ঠস্বর, কুমিল্লা- সোমবার ভোর ৬টায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেনের কাছে ফোন আসে জরুরি পুলিশ সেবা ৯৯৯ থেকে। সারা রাত দায়িত্ব পালন শেষে থানায় ফিরেছেন মাত্র। বিশ্রামের সময় তখন।

কল রিসিভ করা পর জানানো হয়, ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে এক গাজা ব্যাবসায়ী রয়েছে, তাকে আটক করতে হবে। ফোর্সসহ ছুটে গেলেন আসামি ধরতে। তবে ঘটনাটা যে শেষ পর্যন্ত এমন হতে পারে তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আগেই স্থানীয় পাইকারি মাদক কারবারী পালিয়ে যায়। তার সঙ্গে মূলত ‘ব্যবসায়িক লেনদেনে’ সমস্যা হয়েছে এক খুচরা মাদক বিক্রেতার, যিনি একজন নারী। পাইকারী ব্যবসায়ী ওই খুচরা ব্যবসায়ী সালমার কাছ থেকে তিন কেজি গাজা সরবরাহের জন্য টাকা নিয়ে দিয়েছেন মাত্র এক কেজি। বাকিটা দিতে গড়িমসি করছেন।

এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতেই সালমা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে এসআই জাকির হোসেন সালমাকে (৪০) আটক করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা কিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিক্রি করেন খুচরা গাঁজা ব্যবসায়ী নারী সালমা বেগম ও তার স্বামী জসিম উদ্দিন। শনিবার সকালে ৩ কেজি গাঁজার জন্য অপর গাঁজা ব্যবসায়ী রহিমকে দশহাজার টাকা দেন তিনি। এরপরই শুরু হয় যত বিপত্তি।

তিন কেজির বদলে এক কেজি গাঁজা দেয়ায় দুই গাঁজা ব্যবসায়ীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এক পর্যায়ে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বসেন ওই নারী গাঁজা ব্যবসায়ী। এসময় সালমা বেগমকে এক কেজি গাঁজাসহ আটক করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে সটকে পরে পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল রহিম মিয়া।

এদিকে, আসামি সালমা ও পলাতক মাদক কারবারি রহিমকে আসামি করে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী রহিমকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।