সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ডেসটিনির  ট্রি প্ল্যান্টেশনের বাগান থেকে চলছে গাছ কাটা ও বিক্রি

৪:৪০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ চট্টগ্রাম
Bandarban

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, বান্দরবান প্রতিনিধি: আদালতের বাদ্যবাধকতা থাকলেও মামলার খরচ ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা বলে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এর  ট্রিপ্ল্যান্টেশনের বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের একশত পঁচাত্তর একরের একটি ট্রিপ্লান্টেশন থেকে গত ১০ জানুয়ারী থেকে গাছ বিক্রি চলছে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরে ঢাকা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেসটিনির ব্যাপস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিনের মৌখিক নির্দেশে ট্রি প্ল্যান্টেশনের দায়িত্বরত কর্মচারীরা  এ গাছ ব্রিকি করছেন বলে জানিয়েছেন।

গত ২৬ জানুয়ারী রোজ  শনিবার বেলা দুই ঘটিকার সময় লামা উপজেলা ফাইতং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডে অবস্থিত  ট্রি প্ল্যান্টেশনে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ শতাধিকের অধিক রাবার গাছ কেটে নিয়ে গেছে।  পড়ে আছে রাবার গাছের ডালপালা। আর পাহাদাররা বাগানে কাজ করছেন।

এ সময় কথা হয় বাগান পাহারাদার সদস্যদের লীডার  তৈয়ব উদ্দিন হিরুর সাথে । তিনি বলেন,  আমি ডেসটিনির বাগানের ২০০৬সাল থেকে চাকরী করছি। আমরা ডেসটিনির এ বনজ বাগানে আটজন চাকুরি করি। ২০১২ সাল থেকে অদ্যাবধি আমাদের বেতন বন্ধ রয়েছে।  তবে এর মধ্যে ২০১৬ সালেরর বেতন পরিশোধ করেছে ডেসটিনি।  রফিকুল আমিন স্যারের মামলা ও আমাদের  বেতন দেওয়া কথা বলে গত ১০ জানুয়ারী থেকে বাগানের রাবার গাছ গুলো কেটে পাশ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পাঁচশতাধিক গাছ কেটে বিক্রি হরা হয়েছে। আমাদের  বাগানের দায়িত্বরত সুপার ভাইজার মোঃ হারুনর রশিদ ও সায়িদ হোসেনের কাছ থেকে  শুনেছি রফিকুল আমিন স্যার নাকি এ গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা গাছ কাটায় কোন  বাঁধা দিইনি।

এদিকে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ডেসটিনির ট্রিপ্লান্টেশনের দায়িত্বরত সুপার ভাইজার মোঃ হারুনর রশিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২৬  তারিখ ঢাকা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেসটিনির ব্যাপস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিন স্যার ট্রি প্লান্টেশনের গাছ কেটে মামলার খরচ ও ট্রি প্লান্টেশনের কর্মচারীদের বেতন প্রদান করার  জন্য সায়িদ হোসেন নামের এক ব্যাক্তিকে মৌখিক  ভাবে দায়িত্ব দিয়ে গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন।তার তত্বাবধানে আমি এ পর্যন্ত পাচঁশত রাবার গাছ কেটে পাশ্ববর্তী ইভাটায় বিক্রি করে দিয়েছি। গত ২২ ও ২৩ জানুয়ারী  ইং তারিখ সায়িদ হোসেনের  ডাচ বাংলা ব্যাংক চকরিয়া শাখার  নিজ একাউন্টে   ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। আমাদের গাছ কাটা অব্যাহত রয়েছে।আজ ২৯ জানুয়ারী রোজ মঙ্গলবার রফিকুল আমিন স্যারে সাথে হিসাব নিয়ে ঢাকায় কথা হবে কথা হবে বলে জানায়।

ফাইতং ওয়ান ট্রি প্ল্যান্টেশনের ম্যানাজার মোঃ সাইদুল ইসলাম কিরণ জানিয়েছেন, ডেসটিনির এ ট্রিপ্ল্যান্টেশনের মোট একশত পঁচাত্তর একরের যায়গা রয়েছে। তবে বাগানের রাবার গাছ গুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। তব এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এ রকম ধাপেধাপে ২০১৩সাল থেকে ২০১৯সালের মধ্যে আরো তিন বার বাগান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ কাটা হয়েছে। এর চেয়ে আর আমি আর কিছু জানিনা। তবে রফিকুল আমিনের স্যারের সাথে বৈঠকের বিষয়ে আমি কিছু জানিান বা কিছু বলতে পারবোনা।

গাছ কাটার জন্য ডেসটিনির ব্যাপস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিনের নিয়োজিত সায়িদ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর  মাসের ২৬ তারিখ ঢাকা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেসটিনির ব্যাপস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিন স্যারের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। উক্ত বৈঠকে আমিসহ  বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবস্থিত ট্রি প্ল্যান্টেশনের দায়িত্বরত ম্যানাজার সহিদুল ইসলাম কিরণ, সুপারভাইজার মোঃ হারুনর রশিদ ও বান্দরবান জেলার সহকারী কোর্ডিনেটর লামার  দায়িত্বরত আবুল কাশেম উপস্থিত ছিলেন। এ সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ফাইতং ট্রি প্ল্যানন্টেশনের গাছ কাটার অনুমতি দেয় রফিকুল আমিন স্যার। এর পর থেকে ট্রি প্লান্টেশনের গাছ কেটে তার অর্থ মামলার খরচ ও ট্রি প্লান্টেশনের কর্মচারীদের বেতন  দেওয়ার জন্য টাকা জমা করা হচ্ছে। রফিকুল আমিন স্যারে কথা মতো ফাইতং ট্রি প্ল্যান্টেশনের সুপার ভাইজার মোঃ হারুন এ পর্যন্ত গাছ বিক্রির ২লাখ ২০ হাজার টাকার আমার ব্যাংক একাউন্টে জামা দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

তবে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের সচিব মোঃ মিজানের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি  প্রতিবেদককে বলেন, ডেসটিনির ট্রি প্ল্যান্টেশনের বান্দরবানের ফাইতংয়ের বাগানের গাছ কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে গত দুই বছর ধরে ডেসটিনির কোন দায়িত্ব আমি পালন করছিনা। তাই এ বিষয়ে ভালো-মন্দ কোন মন্তব্য করতে পারছিনা। তবে যতুটুক জানতে পেরেছি ফাইতংয়ের ট্রিপ্ল্যান্টেশনের দায়িত্বরতরা যা বলছেন তা মিথ্যা হতে পারেনা বলে আমার বিশ্বাস। এ ছাড়া ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বরত মোঃ মোশারফ হোসেন ও শাহনাজ পারভিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আমরা এখন ডেসটিনির কোন দায়িত্ব পালন করছিনা বলে নমনিয়তা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে লামা থানার ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক(নিরস্ত্র) মোহাম্মদ হানিফ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের  ফাইতংয়ের ট্রি প্ল্যান্টেশনের বনজ বাগান থেকে গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বাগানের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা এ বাগানের গাছ কাটছে। বাগনের কর্মচারীরা এ সব গাছ ডেসটিনির রফিকুল আমিনের নির্দেশে কাটছে বলে জানায়।