সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হিজড়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় কিশোরকে হত্যা

১:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ৩০, ২০১৯ চট্টগ্রাম
Imag98e92

সময়ের কণ্ঠস্বর, চট্রগ্রাম- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় রাহাত (১৩) নামে এক কিশোর হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এক তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) সাথে চারজনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় হত্যা করা হয় কিশোর রাহাতকে।

গত ১৯ জানুয়ারি এ ঘটনার সাথে জড়িত হিজড়া জামাল ওরফে গোলাপ ওরফে রুমানা এবং আবু তালেব প্রকাশ হাছিকে গ্রেফতারের পর ঘটনার রহস্য উম্মোচিত হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই মাসের মাথায় এ ঘটনার রহস্য উম্মোচনে সফল হলেন পুলিশ।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও ফটিকছড়ির ভূজপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গ্রেফতারের পর পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিশোর রাহাতকে হত্যার কারণ জানায়। পরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেলাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবাবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আবু তালেব প্রকাশ হাঁছি আদালতে জানান, রুমানার সাথে তাদের চারজনের অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় লোকজনকে জানিয়ে দেয়ার ভয়ে চারজনে মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাহাতকে।

স্থানীয় যুবক জাহেদ, রাসেদ, দৌলতসহ চারজন রুমানার সাথে অসামাজিক কাজের জন্য ১২ হাজার টাকায় চুক্তি করে। ঘটনার দিন গেল বছরের ২২ নভেম্বর দিনগত রাতে দাঁতমারা বাজার সংলগ্ন গ্রামীণ টাওয়ারের উত্তর পাশের আকাশমনি গাছ বাগানে হাঁছিসহ চারজনের সিন্ডিকেট হিজড়া রুমানার সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু করে। এ সময় প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে সেখানে যায় কিশোর রাহাত। বাগানের ভিতর প্রবেশ করার পর রাহাত তাদের এ অপকর্ম দেখে ফেলে।

এ সময় অসামাজিক কাজে লিপ্ত চারজনই রাহাতকে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে নিষেধ করে। কিন্তু কিশোর রাহাত তখন সবাইকে জানিয়ে দেবে বলে। তখন চারজন মিলে কিশোর রাহাতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ একটি গাছের নিচে ফেলে চলে যায়।

পরদিন ২৩ নভেম্বর সকালে গ্রামীণ টাওয়ারের উত্তর পাশ থেকে দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের বালুখালি এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে রাহাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২২ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত বাবার সাথে চায়ের দোকানে কাজ করেছিল রাহাত।

রাহাতের মরদেহ উদ্ধারের পর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ গ্রেফতার করে অপর চা দোকানি কিশোর মিজানকে। নিহত রাহাতের ভাই রাসেদুল আলম বাদী হয়ে মিজানকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে ভুজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করে। মামলা নং-৫(১১)/১৮। যা পরবর্তীতে ৩২৩/৩৪ ধারায় জিআর ১২৪/১৮ মুলে গত ২৫ নভেম্বর /১৮ আদালতে ফাইল হয়।

এদিকে দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৯ জানুয়ারি এ ঘটনার সাথে জড়িত হিজড়া রুমানা এবং আবু তালেব হাঁছিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে মামলার রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে দু’জনকে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানী শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা এবং রাহাতকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আসামি হাঁছির দেখানো মতে ঘটনাস্থলটিও শনাক্ত করে পুলিশ।

ওুমানা ওরফে গোলাপ ওরফে হিজড়া জামাল কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার মসিহ উদ্দিনের সন্তান। আর আবু তালব প্রকাশ হাঁছির দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিসদের একতাপুর গ্রামের মৃত নুরুল আলমের পুত্র।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অপর তিন আসামী দৌলত, জাহেদ এবং রাসেদ এখনো পলাতক রয়েছে। তবে তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো. শাহাদাৎ হোসেন।