ডা. আকাশ আর মিতুকে নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

২:৩৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে চট্টগ্রামে চিকিৎসক স্বামীর আত্মহত্যার সংবাদ নিয়ে দেশের মিডিয়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সরগরম। ৯ বছর প্রেম করার পর বিয়ে এরপর কেন আত্মহত্যা নানা প্রশ্নে ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মিতুকে ত্যাগ না করে কেন আত্মঘাতী হলেন আকাশ, এ নিয়ে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন ফেসবুক জনতা। বাদ পড়েননি ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। এবার ডা. আকাশের আত্মহত্যা বিষয়ে ফেসবুকে নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি।

ডা. আকাশ বিষয়ে তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘আত্মহত্যা করলেই সে মানুষ নির্দোষ এমন ভাবার কোনো যুক্তি নেই। মাথায় অসুখ, সে কারণে অনেকে আত্মহত্যা করে। রাগে জেদে হিংসায় ঘৃণায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েও কেউ কেউ আত্মহত্যা করে।

কাউকে খুন করে, অত্যাচার নির্যাতন করে, পালানোর পথ না পেয়ে শাস্তির ভয়ে বা গ্লানিতেও অনেকে করে আত্মহত্যা। বাংলাদেশে এক ডাক্তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে কারণ তার ডাক্তার বউটি অন্য ছেলেদের সংগে প্রেম করতো, শুতো।

এতে বড্ড রাগ হয়েছে ছেলের, তাই আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা করার মানেই সে তার বউকে খুব ভালোবাসতো, তা প্রমাণ করে না। বউ তাকে ছেড়ে চলে যাবে, ডিভোর্স দেবে, বউয়ের এত বড় স্পর্ধা তার সহ্য হয়নি।

আত্মঅহমিকা অনেক সময় এত অতিকায় হয়ে ওঠে, এতে চিড় ধরলে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিতে দ্বিধা করে না।

ডাক্তার ছেলেটির হাত হয়তো নিশপিশ করছিল বউকে আর বউয়ের প্রেমিকদের খুন করতে, কিন্তু দেশের জনগণ জানবে সে খুনী, জনগণ দেখবে তার ফাঁসি হচ্ছে বা তাকে জেলের ভাত খেতে হচ্ছে যাবজ্জীবন! এই ব্যাপারটি তার ভালো লাগেনি।

খুন করতে না পারার এই অক্ষমতাও মানুষকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়। যাকে আমি আমার অধীন রাখতে চেয়েছি, আমার চেয়ে ক্ষুদ্র, আমার চেয়ে তুচ্ছ, আমার চেয়ে মূর্খ না হয়ে যদি সে আমার হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে আমাকেই টেক্কা দেয়, বা আমাকে অবজ্ঞা করে, তাহলে এ জীবন রাখার কোনো মানে নেই।

ঈর্ষা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলে কী করে মানুষ? হয় হত্যা নয় আত্মহত্যা। কেউ একজন আত্মহত্যা করেছে, সুতরাং সে খুব সৎ ছিল, সরল ছিল, মহান ছিল, মহামানব ছিল, এই ধারণাটি মস্ত ভুল ধারণা।

কুখ্যাত খুনী হিটলার আত্মহত্যা করেছিল। বহু খুনী, সন্ত্রাসী, আপরাধীই আত্মহত্যা করেছে। বিশ্বাস না হয়, ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন।

আজকাল তো ইতিহাস কেউ ঘাঁটে না। সহজ উপায় বলে দিই, গুগুল করুন, ‘মারডারারস হু কমিটেড সুইসাইড’, অথবা ‘ক্রিমিনালস হু কমিটেড সুইসাইড’। দেখুন লিস্ট কত লম্বা।’