দেশজুড়ে চলছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ ফিচার
Image

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- স্থগিত হয়ে যাওয়া ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আজ শনিবার সারা দেশে শুরু হয়েছে। আমদানি করা ক্যাপসুলের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবার শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ওষুধ।

এর আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন’ এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এ সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াবেন শিশুদের।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও সাংবাদিকেরা এ কর্মসূচিতে সহায়তা করবেন। ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়াতে ক্যাম্পেইনের সদস্যরা লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, টোল প্লাজা, বঙ্গবন্ধু সেতু, মেঘনা সেতু, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও খেয়াঘাটে থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবে।

তবে দুর্গম এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ১২টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন (১০-১৩ ফেব্রুয়ারি) বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করে বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুদের ভরাপেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। কাঁচি দিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মুখ কেটে এর ভিতরে থাকা সবটুকু তরল ওষুধ চিপে খাওয়ানো হবে। জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। ৬ মাসের কম বয়সী, ৫ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো যাবে না।

শিশুদের রাতকানা ও অপুষ্টি দূর করতে ১৯৭৪সাল থেকে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। যখন এই কার্যক্রম গ্রহণ করেন তখন ০৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মাঝে রাতকানা রোগের হার ছিল ৩.৭৬ শতাংশ। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অব্যাহত রাখার ফলে বর্তমানে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের হার শতকরা ১ ভাগের নিচেই রয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন করার কথা থাকলেও দেশের কোনো কোনো এলাকায় বয়াম খোলার পর ক্যাপসুলের জিলেটিন (বাইরের খোলস) একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে থাকার তথ্য আসে। যদিও শিশুদের ক্যাপসুলের ভেতরের অংশ খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়। ওই ওষুধ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছিল।