ভয়াবহ লোডশেডিং! বিপাকে বোরো চাষী ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

১০:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ স্পট লাইট
Kurigram

ফয়সাল শামীম,স্টাফ রিপোর্টার: কুড়িগ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ লাইনে স্বরণ কালের ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দিন রাত মিলেও মিলছে না ৩/৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছে বোরো চাষী ও চলতি এসএসসি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীসহ ব্যাবসায়ীগণ। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পযন্ত চলে টানা লোডশেডিং। ফলে বেড়েছে চুরিও। আর যেটুকু বিদ্যুৎ থাকে তাও আবার লো-ভোল্টেজের।

আর নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্যমুলক বিদ্যুৎ বিতরণের কারণে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে ভিতরবন্দ-যাত্রাপুর লাইনের গ্রাহকরা। এর ফলে কৃষকরা বোরো ক্ষেতে পানি দিতে না পারায় কাঙ্খিত ফসলের প্রত্যাশা করতে পারছে না। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি সঠিকভাবে নিতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গ্রাহকদের গুরুত্বর অভিযোগ বিদ্যুৎ বিতরণে স্বজন প্রীতির কারণে মুলত এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন ভিতরবন্দ-যাত্রাপুর লাইনে সকাল ৯ টা থেকে সন্ধা ১২ টা পযন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, সকাল ৯ টা থেকে শুরু করে টানা ১২ টা পযন্ত একটানা লোডশেডিং দিয়ে ১২ থেকে ১ পযন্ত ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ দিয়ে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ভিতরবন্দ বাজারের ঔষধ ব্যাবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ এখন সোনার হরিণ। কখন আসে কখন যায় বলতে পারবো না। তবে সকাল ৯ টা থেকে শুরু করে রাত ১১ টা পযন্ত মনে হয় ২/৩ বার যাওয়া আসার মধ্য দিয়ে ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই।

একই এলাকার কৃষক বাবলু ও বক্কর মিয়া জানান, বরেন্দ্রতে চাষ করে আমরা মহা বিপদে পড়েছি। কারণ কখন বিদ্যুৎ আসে কখন যায় আমরা বলতে পারি না। তারা আরও বলেন, এখন ধান বেরুনোর সময়। এখন পানির ত্রুটি করলে আবাদ শেষ হয়ে যাবে। চলতি এসএসসসি পরীক্ষায় মধ্যকুমরপুর গালর্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে কনিকা ও রুমকি তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, দিন রাত মিলে আমরা ৩/৪ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। তারা জানান তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মহা সমস্যা হচ্ছে।

স্বরণ কালের ভয়াবহ লোডশেডিং ও স্বজন প্রীতি মুলভাবে বিদ্যুৎ সরবারহের ব্যাপারে জানতে চাইলে নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম বলেন, আমাদের চাহিদা ১৮/২০ মেগাওয়াট আর পাচ্ছি মাত্র ৭/৮ মেগাওয়াট। স্বজনপ্রীতিমুলকভাবে বিদ্যুৎ সরবারহের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা একটু করতেই হবে কারণ আমরা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তরা তো উপজেলা শহরেই থাকি।