ঝিনাইদহের ২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন এখনো শিশু!

Imag09756

আরাফাতুজ্জামান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঝিনাইদহ- ২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন “শিশু” কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারে। তার স্থান এখনো মায়ের কোলে। হাটতে পারে না। বয়স বাড়লেও বাড়েনি অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ। নেই শরীরের কোন পরিবর্তন।

যে বয়সে পড়ালেখা বা বিয়ের রঙ্গিন স্বপ্ন থাকার কথা সেই বয়সেও চম্পা মানুষের কোলে চেপে বসে থাকে। বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধি হিসেবে সমাজসেবা থেকে তার নাম নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং ১৯৯৯৪৪১১৯৮৯৯৮৯৭৯০-১১) হলেও এখনো ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড। চম্পা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের বংকিরা গ্রামের হাসেম মোল্লার মেয়ে।

চম্পা খাতুনের মা মিনুয়ারা বেগম জানান, ১৯৯৯ সালের ২৮ এপ্রিল চম্পা খাতুনের জন্ম। জন্মের পর থেকে সে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধি। আচরণ করে শিশুর মতো। কোন কথা বলতে পারে না। কেবল হাসতে আর কাঁদতে পারে। সারাক্ষণ মানুষের কোলে কোলেই তার দিন কাটে।

বড় বোন ময়না খাতুন জানান, ২০ বছর বয়স হলেও চম্পা এখনো শিশুর মতোই রয়ে গেছে। তার পিতা হাসেম মোল্লার মেয়েকে চিকিৎসা করানোর মতো সঙ্গতি নেই। এ জন্য তারা চম্পার জন্য একটি প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা সমাজসেবা থেকে ২০১৬ সালে প্রতিবন্ধি হিসেবে চম্পার নাম নিবন্ধিত হলেও সেখানে মোছাঃ চম্পার খাতুনের স্থলে ভুলক্রমে মোঃ চাকমা খাতুন লেখা হয়েছে। নাম সংশোধনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও ময়না খাতুন জানান।

প্রতিবন্ধি ভাতা না হওয়া প্রসঙ্গে এলাকার ইউপি মেম্বর এনামুল হক ডালু বলেন, বছরে দুইটি কার্ড পায়। কার রেখে কার দেব? তবে পর্যায়ক্রমে চম্পা খাতুনকেও দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

২০ বছর বয়সী চম্পা খাতুন এখনো “শিশু” থাকার বিষয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও ঝিনাইদহের প্রাইভেট প্যাকটিশনার বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অলোক কুমার সাহা জানান, এই রোগটিকে বলে হাইপো থাইরয়েডিজম। চিকিৎসা করালে রোগটি ভাল হতে পারে। হয়তো অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে তারা পিছিয়ে আছে।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় নানা বয়সী এমন রোগী আছে। থাইরয়েড পরীক্ষার পর এই রোগের চিকিৎসা শুরু করতে হয় বলেও তিনি জানান।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views