ভোলায় মাছের ঘের নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ আহত-৯

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলা সদর উপজেলায় মাছের ঘেরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত নয় জন আহত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের গাজীর চর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন – মোঃ কাশেম বয়াতী, তার ভাই বিল্লাল, ছেলে মাইনুদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম, ছেলের স্ত্রী সিমা আক্তার। অপর পক্ষের আবুল কালাম, আরিফ, জুলহাস ও বিবি আনোয়ারা।

আহতদের মধ্যে গুরুতর চার জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত কাশেম বয়াতীর ছেলে মাইনুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা ভেলুমিয়ার গাজীর চরের প্রায় ৮০ শতাংশ জমির একটি মাছের ঘের মোঃ আবু জাফর, সামছুল হক হাওলাদার, হাজি বশির ও খালেক পাটওয়ারীর কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকায় আগামী তিন বছরের জন্য লিজ নেয়। জমির মালিকদের লিজের টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়। সকালে ওই ঘেরে তার বাবা কাশেম, ভাই জহিরুল ও লেবার বাগন আলী মিলে মাটি কাটতে যায়। এ সময় ঘেরটি পূর্বের লিজ নেয়া মোফাজ্জল হোসেন ও তার ছেলেরাসহ লাঠিসোঠা নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। পরে তাদের ডাকচিৎকারে বাড়ি থেকে মাইনুদ্দিন ও তার স্ত্রী সিমা আক্তার ছুটে আসলে তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ ঘটনা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান মাইনুদ্দিন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় খালেকের কাছ থেকে গত ১৯ বছর ধরে ঘেরটি লিজ নিয়ে ভোগ করে আসছি। কিন্তু আমাকে কিছু না জানিয়ে কাশেম বয়াতীর কাছে ঘেরটি লিজ দিয়েছেন আবু জাফর। তারপরও আমি কাশেম বয়াতীকে বলেছি খালেকের কাছ থেকে আমি টাকা পাই। আমি জৈষ্ঠ মাস থেকে আমি ঘের লিজ নিয়েছি। আবার জৈষ্ঠ মাসে আমার লিজ শেষ হবে। এ অবস্থায় সকালে কাশেম বয়াতী আমাকে কিছু না জানিয়ে আমার পুকুরের পানি নামার জায়াগা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিলে আমি মাটি সরিয়ে ফেলি। পরে আমি চলে গেলে তারা আবার পুনরায় মাটি দিয়ে পানি নামার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সর্বশেষ আমি ঘেরের কাছে গেলে কাশেমের ছেলে আমি মারার জন্য লাঠি নেয়। পরে আমি ডাকচিৎকার দিলে লোকজন আসলে তাদের সাথে মারামারি বাধে। এতে আমার স্ত্রী, ভাই ও দুই ছেলে আহত হয়।

জমির মালিক মোঃ আবু জাফর বলেন, আমি ঘের এ বছর কাশেম বয়াতীর নিকট লিজ দিয়েছি। কেনো তারা মারামারি করছে আমি জানি না।

ভেলুমিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান জানান, সকালে একজন মোবাইল ফোনে আমকে জানিয়েছি। আমি তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বলেছি। তবে এখনও কেউ মামলা করেনি। মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views