জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর’ করার প্রস্তাব

Img0888

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে গড়ে তোলা ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে’ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রস্তাব এনেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

প্রয়াত সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করার স্থান চট্টগ্রামের পুরনো সার্কিট হাউস এখন জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা। এখানে প্রবেশে জনপ্রতি নেয়া হয় ২০ টাকা।

জানা যায়, সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে’ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের এই প্রস্তাব দেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য নওফেল। তার এই প্রস্তাবে সমর্থন দেন মন্ত্রীসভার প্রায় সব সদস্য। প্রস্তাবে নীতিগত সমর্থন এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও।

সূত্রমতে, বৈঠকে উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, ‘যে ভবনটিকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর বানানো হয়েছে, সেটি বৃটিশ আমলে নির্মিত। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত একটি ভবন এটি। একসময় সার্কিট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে অনেক নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি সেনারা ধরে নিয়ে ওই ভবনে রেখে নির্যাতন করেছিল। সেখানে একটি ইলেকট্রিক চেয়ার ছিল। সেখানে বসিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হতো। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তখন এই সার্কিট হাউজে এসে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯১ সালে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটিকে আকস্মিকভাবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তর করেন, যা চট্টগ্রামবাসী এবং আপামর মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নেননি। সেখানে জিয়াউর রহমানের কোনো স্মৃতি নেই। শুধু ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাটি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে যে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রচার হয়েছিল, সেটি এনে সেখানে রাখা হয়েছে। অথচ জিয়াউর রহমানের আগে একই ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান। তাহলে শুধু জিয়াউর রহমানের নামে কেন জাদুঘর হবে?’

নওফেল আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী। আদালতের রায়ে তিনি একজন অবৈধ সামরিক শাসক। তার নামে কেন একটি রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এভাবে ব্যবহার করা হবে? তাছাড়া জিয়ার নামে স্থাপনা হওয়ায়, এই দর্শনীয় স্থানটিতে চট্টগ্রামের মানুষ যান না। অথচ এটিকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর করে একটি সার্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্ত করলে এটি দেশের সম্পদে পরিণত হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে একটি প্রকল্প গ্রহণের অনুরোধ করেন মন্ত্রীসভার তরুণ সদস্য নওফেল।

নওফেলের বক্তব্যের পর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রথম তাকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি এই বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views